সোমবার
২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আতঙ্কে কলকাতা ছাড়ছেন বাংলাদেশিরা

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৩৩ পিএম আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৪১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকায় একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যুর পর বাংলাদেশি পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতির মধ্যে অনেক বাংলাদেশি পর্যটক দ্রুত কলকাতা ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। একই সঙ্গে প্রশাসনের অভিযানে নিরাপত্তা ঘাটতির কারণে ১১টির বেশি হোটেল বন্ধ করে দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন পর্যটক ও চিকিৎসার জন্য কলকাতায় আসা রোগীরা।

ফলে কলকাতায় অবস্থানরত বাংলাদেশিদের কেউ দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, আবার কেউ থাকার জন্য বিকল্প হোটেলের সন্ধানে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় ঘুরছেন।

বুধবার (১৯ আগস্ট) ভোরের আগে মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি নাগরিক ছিলেন।

এ ঘটনার পর কলকাতা প্রশাসন শহরের বিভিন্ন হোটেল ও অতিথিশালায় অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা যাচাইয়ে অভিযান শুরু করেছে। পরিদর্শনে নিরাপত্তাব্যবস্থায় ঘাটতি পাওয়া হোটেলগুলো বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। এতে কলকাতায় অবস্থানরত বাংলাদেশি পর্যটক ও রোগীদের আবাসন নিয়ে নতুন করে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

বাংলাদেশি পর্যটকদের কাছে নিউ মার্কেট, মার্কুইস স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট ও মির্জা গালিব স্ট্রিট দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত এলাকা। চিকিৎসার জন্য কলকাতায় আসা রোগী ও তাদের স্বজনেরাও সাধারণত এই এলাকায় তুলনামূলক কম খরচের হোটেলগুলোতে থাকেন। কিন্তু এখন সেই পরিচিত এলাকাই আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পাবনার বাসিন্দা মোহাম্মদ খুরশিদ আলম কলকাতায় ব্যবসায়িক কাজে এসে অগ্নিকাণ্ডের পর হোটেল বদলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশে থাকা তার স্ত্রী ও বাবা-মা আগুনের খবর পেয়ে তাকে দ্রুত দেশে ফিরতে বলেছিলেন।

হোটেল বন্ধের কারণে নতুন সমস্যাও দেখা দিয়েছে। অনেক পর্যটককে হঠাৎ ঘর ছাড়তে বলা হচ্ছে। এরপর বিকল্প হোটেলে গিয়ে কোথাও কোথাও আগের তুলনায় দেড় থেকে দ্বিগুণ ভাড়া চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফলে চিকিৎসা নিতে আসা বাংলাদেশি পরিবারগুলোও বাড়তি খরচের চাপে পড়ছে। বাংলাদেশি পর্যটকদের মধ্যে কেউ কেউ ইতিমধ্যে ফেরার টিকিট এগিয়ে নিয়েছেন।

ঢাকার বাসিন্দা ইসমাইল সরকার গণমাধ্যমকে বলেন, প্রশাসনিক অভিযানের মধ্যে আটকে পড়তে চান না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার কলকাতায় আসার কথা জানিয়েছেন তিনি।

কলকাতার এই এলাকাগুলোর ব্যবসা বাংলাদেশি পর্যটকদের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল। হোটেল বন্ধের পাশাপাশি পর্যটকের সংখ্যা কমে গেলে খাবারের দোকান, পরিবহন, কেনাকাটা ও অন্যান্য ব্যবসাতেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রশাসনের বক্তব্য, মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে অগ্নিনিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনকারী হোটেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তবে বাংলাদেশি পর্যটকদের প্রত্যাশা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থাও যেন করা হয়।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন