

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভ বলেছেন, প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে তিলে তিলে শেষ করার জন্য স্লো-পয়জনিং করা হয়েছিল- এটা আসলে সত্য। এ বিষয়ে অতি জরুরিভাবে খুব পাওয়ারফুল একটা তদন্ত কমিটি করা দরকার বলে জানান তিনি।
রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে আয়োজিত দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে এসব কথা বলেন তিনি। খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে এ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সুপ্রিম কোর্ট শাখা।
খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, অবিস্মরণীয় তার স্মৃতি আমাদের মনে চিরদিন জাগ্রত রাখতে হবে। তার যে দেশপ্রেম, তার যে অবদান, তার যে অর্জন— সে অর্জনকেও আমাদের ভুলে গেলে চলবে না। সব সময় সেটা মনে রাখতে হবে। তিনি যে কাজগুলো করে গেছেন এবং যে কাজগুলো করতেন, আমরা যদি রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক বিকাশ, সমাজের গণতন্ত্রের চর্চা যদি আমরা অব্যাহত রাখি, তাহলেই খালেদা জিয়াকে সম্মান জানাতে পারবো।
তিনি বলেন, আমরা যদি আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারি, তাহলেই খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধা জানানো হবে। আমরা যদি কথা বলার স্বাধীনতা— আমাদের কণ্ঠে আমাদের মত যাই হোক না কেন, ভিন্ন মত থাকতে পারে, কিন্তু সব মত একটি জায়গায়, একটি দেশে তারা কথা বলবে, কেউ গুমের ভয় করবে না, কেউ গুপ্ত হত্যার ভয় করবে না, কেউ রাষ্ট্রীয় কোনো হত্যার ভয় করবে না— এই ধরনের একটি নির্ভয় গণতান্ত্রিক সমাজ নিশ্চিত করতে পারি, তাহলেই খালেদা জিয়াকে আমরা শ্রদ্ধা জানাতে পারবো। কারণ, তিনি এই কাজগুলোই করতে চেয়েছিলেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য আরও বলেন, যে মানুষটি প্রতিটি মুহূর্তে, প্রতিটি সময়ে স্বদেশ এবং দেশের জনগণ— তার ভাবনা নিয়ে, তাদের চিন্তা নিয়ে, তাদের স্বার্থ নিয়ে কখনো তার এই যে রাজনৈতিক জীবন, সেটাও তো কম না। সেই ১৯৮১ সালে তিনি বিএনপিতে যোগদান করেছেন এবং মৃত্যু পর্যন্ত তিনি চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রতিটা ক্ষণ, প্রতিটা মুহূর্ত তিনি মানুষের পক্ষে কথা বলে গেছেন। আর এ জন্য তাকে সইতে হয়েছে কত গঞ্জনা, কত অপপ্রচার, কত ধরনের মিথ্যা কলঙ্ক লেপন করা হয়েছে। কত নিপীড়ন-নির্যাতন করা হয়েছে!
কারাবন্দি থাকা অবস্থায় খালেদা জিয়ার অসুস্থা নিয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন, তার অসুস্থতাকে গ্রাহ্য করেনি সরকার। সরকার— যারা ছিলেন ফ্যাসিবাদী সরকার, তারা নিজেরা যখন বন্দি হয়েছেন ১/১১-তে, অসুস্থতার কারণে তারা স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন চিকিৎসার জন্য, বাইরেও গেছেন; কিন্তু খালেদা জিয়ার ভাগ্যে সেই সুযোগটুকু ঘটেনি। তার উন্নত চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থাই করেনি। আমরা বারবার বলেছি যে তাকে তিলে তিলে শেষ করার জন্য ফুড পয়জনিং করা হয়েছে, এটা আসলে সত্য। এ বিষয়ে একটা অতি জরুরিভাবে খুব পাওয়ারফুল একটা তদন্ত কমিটি করা দরকার।
তিনি বলেন, যে মানুষটি হেঁটে গেলেন কারাগারের ভেতরে, সেই মানুষটি জরাজীর্ণ অবস্থায়, অসুস্থতায়, রোগে-শোকে ধুঁকতে ধুঁকতে বের হলেন। এই রোগে-শোকে ধুঁকতে ধুঁকতেই তার জীবনাবসান হলো গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, বিএনপির আইন সম্পাদক ব্যারিস্টার এম বদরুদ্দোজা বাদল, অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, সুপ্রিম কোর্ট বারের সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ আলী, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক গাজি কামরুল ইসলাম সজল, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সুপ্রিম কোর্ট ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক গাজী তৌহিদুল ইসলাম প্রমুখ।


