

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীকে নিয়ে অতীতে দেওয়া নিজের আলোচিত মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মুহাম্মদ রাশেদ খান।
বুধবার (০৯ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক পোস্টে পুরোনো মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
রাশেদ খান লিখেছেন, এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী অতীতে জাতীয়তাবাদী আদর্শের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তার সহধর্মিণী ও কন্যা এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদসহ বিএনপি সরকারের মন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে তীর্যক, অকথ্য, অশ্রাব্য ও তুই-তোকারি ভাষায় গালিগালাজ করেছিলেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে কয়েক মাস আগে তিনি অসাবধানতাবশত উদাহরণ হিসেবে একটি প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন রাশেদ। নিজের সেই বক্তব্যের অংশও ফেসবুক পোস্টে ডট দিয়ে উল্লেখ করেন তিনি। ওই পোস্টে তিনি লিখেন, ‘রাস্তা দিয়ে যখন কোনো **** হেঁটে যায়, ওটাকে **** মানুষ মনে না করে *** ওটাই মনে করা উচিত! বর্তমান রাজনীতিতে নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীর মতো আমরা এমন কিছু *** লোক দেখতে পাচ্ছি, যারা রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে নোংরা করছে!’
রাশেদ খান বলেন, নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী ন্যূনতম পরিশীলিত রাজনীতি করলে হয়তো তাকে এমন উদাহরণ দিতে হতো না। পাশাপাশি নাসীরুদ্দীন তাকে নিয়েও অশ্রাব্য ভাষায় বিভিন্ন কথা বলায় ব্যক্তিগত সংক্ষুব্ধতা থেকে তিক্ততা তৈরি হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে কথা না বলার জন্য নাসীরুদ্দীন তাকে ফোনও করেছিলেন। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পর তিনি নিজের দেওয়া কমিটমেন্ট ভঙ্গ করেন বলে দাবি করেন রাশেদ।
নাসীরুদ্দীনের বিভিন্ন বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে রাশেদ খান বলেন, তবুও নাসীরুদ্দীনের মতো নোংরা ভাষার জবাব নোংরা ভাষায় দেওয়া তার ঠিক হয়নি বলে মনে করেন দেশ-বিদেশে অবস্থানরত তার অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী।
নিজের ওই প্রতিক্রিয়াকে ‘টিট ফর ট্যাট’-এর মতো বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে রাশেদ খান লিখেছেন, ‘কিন্তু ২০২৪-পরবর্তী রাজনীতির গতিপথে আমরা চেয়েছি দেশ গঠন, মানবিক মর্যাদা ও বৃহত্তর কল্যাণকে প্রাধান্য দিতে। আর এ কারণে আমার জায়গা থেকে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ভাষাগত ভুল হয়েছে, তা আমি প্রত্যাহার ও ভবিষ্যতে নিজেকে শুধরে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।’
তিনি বলেন, ‘আমি বা আমাদের সবারই উচিত গঠনমূলক সমালোচনার পাশাপাশি সহনশীল ও পরিশীলিত রাজনীতির সুযোগ সৃষ্টি করা।’
রাশেদ খান আরও বলেন, ২০১৮ সাল থেকে কোটা সংস্কার আন্দোলন, সংগ্রাম ও রাজনৈতিক অভিযাত্রায় তিনি সবসময় সহনশীলতা এবং ভাষার ব্যবহারে সতর্ক থাকার চেষ্টা করেছেন। ভবিষ্যতেও এ প্রচেষ্টা ও সতর্কতা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
পোস্টের শেষ দিকে রাশেদ খান বলেন, ‘আমি মনে করি, ঘৃণা ছড়িয়ে আমরা কেউই লাভবান হতে পারব না। তাতে কেবল বিরাজনীতিকরণের উদ্দেশ্যে বসে থাকা গোষ্ঠী উপকৃত হবে।’

