

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


লিফটে ওঠার সময় সিনিয়র শিক্ষার্থীকে ‘ভাই’ না বলে ‘ব্রো’ সম্বোধন করাকে কেন্দ্র করে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) শিক্ষার্থীদের মাঝে দফায় দফায় কথা-কাটাকাটি ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনার জেরে ছাত্রদল নেতাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে হাতাহাতি, হেনস্তা ও হুমকির অভিযোগ উঠেছে; এমনকি একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে এক ছাত্রদল নেতাকে ধাওয়া বা দৌড়ানি খাওয়ার ঘটনাও ঘটে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিজয়-২৪ হলে ঘটনার সূত্রপাত ঘটে এবং রাতে শেরেবাংলা হলের সামনে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে বিজয়-২৪ হলের লিফটে ওঠার সময় ২৩ ব্যাচের রাতুল হাসান রুম্মান নামে এক শিক্ষার্থী ২১ ব্যাচের শরীফকে ‘হেই ব্রো, লিফটটি ধরেন’ বলে ডাকেন। সিনিয়রের পরিচয় না দিয়ে ‘ব্রো’ বলায় শরীফ তার ওপর ক্ষিপ্ত হন এবং লিফটে উঠতে বাধা দেন। পরবর্তীতে তা রুম্মান ও শরীফের মধ্যে হাতাহাতিতে রুপ নেয়।
তথ্যসূত্রে জানা যায়,রুম্মান ছাত্রদল নেতা জিবরাইল শরীফের অনুসারী। ঘটনার একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল নেতা জিব্রাইল শরীফ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং শরীফের সাথে সংঘর্ষ এ জড়ান।
এ সময় শরীফকে মারধরের ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে শরীফের সহপাঠীরা এসে ছাত্রদল নেতা জিবরাইল শরীফের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে জিবরাইল শরীফকে লাঠিসোঁটা নিয়ে তাড়া করে। পরবর্তীতে শরীফের সহপাঠীরা ছাত্রদল নেতা জিবরাইল শরীফের রুমে গিয়ে ভাংচুর করে।
রুম্মানের দাবি, দুপুরে ক্লাস শেষে ক্লান্ত থাকায় তিনি ‘ভাই’ না বলে ‘ব্রো’ বলেছিলেন, যা নিয়ে তাকে বকাঝকা ও মারধর করা হয়।
অন্যদিকে, শরীফের দাবি- রাতে শেরেবাংলা হলের ক্যান্টিনের সামনে রুম্মানসহ কয়েকজন তার পথরোধ করে হামলা চালায়। আত্মরক্ষা করতে গিয়ে রুম্মানের কপাল কেটে যায়।
শরীফ অভিযোগ করেন, ছাত্রদল নেতা জিব্রাইল শরীফ ১৫-২০ জনকে সঙ্গে নিয়ে এসে তার কলার ধরে হলের বাইরে নিয়ে যান, গালাগালি করেন এবং ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়া, পুলিশে দেওয়া ও মামলার হুমকি দেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রদল নেতা জিব্রাইল শরীফ বলেন, “হলের ভেতরে হইচই শুনে গিয়ে দেখি আমার ছোট ভাইয়ের সঙ্গে সিনিয়রের সমস্যা হয়েছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য গেস্টরুমে বসতে চাইলে অনিমেশ রায় নামে ২১ ব্যাচের এক শিক্ষার্থী অন্যদের খবর দেয়। পরে তারা এসে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতিতে জড়ায়।”
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আরফান আলী জানান, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে এটি ব্যাচভিত্তিক ঝামেলা। আমরা বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করছি। বুধবার সব পক্ষকে নিয়ে বসে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

