

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নিজের নিয়োগ এবং ধর্মীয় অবস্থান নিয়ে তৈরি হওয়া নানা প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে আত্মপক্ষ সমর্থনের বদলে কাজ দিয়েই নিজের অবস্থান প্রমাণ করতে চান ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘আমাকে এমন জায়গায় ফেলবেন না, যেখানে আমাকে বলতে হয়, কাদম্বিনী মরিয়া প্রমাণ করিল, কাদম্বিনী মরে নাই।’
সম্প্রতি সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি।
ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর নিয়োগের পর বিভিন্ন মহলে তার ধর্মীয় অবস্থান ও মতাদর্শ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। হেফাজতে ইসলামও তার নিয়োগে আপত্তি জানায়। এসব প্রশ্নে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে গিয়ে শামীম কায়সার বলেন, তিনি কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় মতাদর্শ প্রতিষ্ঠা বা কারও ওপর কোনো মত চাপিয়ে দিতে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে আসেননি।
তিনি বলেন, ‘আমি সবার চিন্তা ও উদ্বেগকে সম্মান করি। ধর্ম মন্ত্রণালয়ে কোনো মতবাদ প্রতিষ্ঠার জন্য আসিনি। সব ধর্ম, মত ও পথের মানুষের নিজ নিজ অবস্থান ও স্পেস নিশ্চিত করাই আমাদের দায়িত্ব।’
নিজের নিয়োগ নিয়ে আপত্তির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো নিয়োগই যে সবার পছন্দ হবে, বিষয়টি এমন নয়। আবার ধর্মবিষয়ক কোনো প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে কারও মধ্যে অস্পষ্টতা বা ভুল ধারণা থাকলেও সেখান থেকে আপত্তি তৈরি হতে পারে।
তবে এসব প্রশ্নের উত্তর সময়ের সঙ্গে পরিষ্কার হবে বলে মনে করেন তিনি। শামীম কায়সার বলেন, ‘আমরা যত কাছাকাছি কাজ করব, বিষয়গুলো ততই পরিষ্কার হয়ে যাবে। ইনশাআল্লাহ, দূরত্ব কমে আসবে।’
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা প্রশ্নের প্রসঙ্গেই ‘কাদম্বিনী’ প্রসঙ্গটি টানেন তিনি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্পের কাদম্বিনীর মৃত্যুর পরও তাকে প্রমাণ করতে হয়েছিল যে তিনি মারা যাননি, সেই বিখ্যাত ব্যঙ্গাত্মক পরিস্থিতির সঙ্গে নিজের অবস্থানকে তুলনা করেন প্রতিমন্ত্রী।
শামীম কায়সার বলেন, ‘আমি কী করতে চাই, সময় ও কর্মকাণ্ডই তা প্রমাণ করবে।’
হেফাজতে ইসলামের আপত্তির কারণ প্রসঙ্গে নিজের পারিবারিক ধর্মীয় পরিবেশের কথাও তুলে ধরেন তিনি। জানান, তার নানার পরিবার হানাফি মাজহাবের অনুসারী এবং দাদার পরিবার বাংলাদেশ জমিয়তে আহলে হাদিসের অনুসারী। ফলে ছোটবেলা থেকেই তিনি দুই ধরনের ধর্মীয় চর্চা দেখে বড় হয়েছেন।
মায়ের মৃত্যুর পর ২০১৪ সালে ওমরাহ পালনের পর ইসলাম সম্পর্কে জানার ও পড়াশোনার আগ্রহ আরও বাড়ে বলে জানান তিনি। পরে আরবি, তাজবিদসহ বিভিন্ন ইসলামী বিষয়ে পড়াশোনা করেন। ২০১৯ সাল থেকে মসজিদে বক্তব্য দেওয়ার অনুমতিও পান এবং বিভিন্ন মসজিদে খুতবা দেন।
ধর্মীয় মতাদর্শের ভিন্নতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইসলামী জ্ঞানচর্চার ব্যাপ্তি অনেক বিস্তৃত। শুধু ইউটিউবে দু-একটি বক্তৃতা শুনে ‘আমি জান্নাতি, বাকি সবাই জাহান্নামি’ কিংবা ‘আমরাই সঠিক, অন্য সবাই ভুল’, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো জ্ঞানচর্চার পরিচয় নয়।
নিজের বিরুদ্ধে কোনো কট্টরপন্থি বা ‘লা-মাজহাবি’ অবস্থানের ধারণাকেও তিনি অপবাদ হিসেবে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও হেফাজতে ইসলামের অনেক শীর্ষস্থানীয় আলেমের সঙ্গে তার কথা হয়েছে বলেও জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি সংশ্লিষ্টদের বলেছি, আমার অতীতের কর্মকাণ্ড দেখুন। আমি কোনো মতবাদ চাপিয়ে দিতে আসিনি। আমি যে কোনো মতবাদ প্রতিষ্ঠা করতেও আসিনি, এটা কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করতে পারব।’
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সম্পর্কে শামীম কায়সার বলেন, এটি কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম বা মত প্রতিষ্ঠার মন্ত্রণালয় নয়। দেশের সব ধর্ম, মত ও পথের মানুষের নিজ নিজ অবস্থান ও স্পেস নিশ্চিত করাই এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য আরও এগিয়ে নিতে হবে। একই সঙ্গে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।
নিজের অবস্থান নিয়ে ওঠা প্রশ্নের প্রসঙ্গে শেষ পর্যন্ত তাঁর বার্তা একটাই, কথার মাধ্যমে নয়, দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে নিজের অবস্থান প্রমাণ করতে চান তিনি।


