

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রাজধানী থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে ১১ দলীয় জোটের লংমার্চকে ‘লং ড্রাইভ’ ও ‘রাজনৈতিক পরকীয়া’র সঙ্গে তুলনা করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক গোলাম মাওলা রনি। একই সঙ্গে এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য ও কার স্বার্থে তা করা হচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
শনিবার (০৫ সেপ্টেম্বর) এনপিবি নিউজ আয়োজিত ‘প্রশ্নের মুখোমুখি’ টকশোতে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন গোলাম মাওলা রনি। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাসুদ কামাল।
লংমার্চ প্রসঙ্গে গোলাম মাওলা রনি বলেন, ‘লংমার্চ হয়েছে, ভালো কথা। এরকম লংমার্চ আমরা জীবনে দেখিনি। এটাকে অনেকে লং ড্রাইভও বলছেন। এমন লং ড্রাইভও আমি দেখিনি।’
লং ড্রাইভের উদাহরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘লং ড্রাইভে সাধারণত কী হয়, জানেন? আপনি তো ইয়াং মানুষ। গোপনে প্রেমিক-প্রেমিকাকে নিয়ে যায় কেউ, কেউ দেখে না। আর এটা ৯৯ শতাংশই পরকীয়া।’
এরপর নিজের বক্তব্যের সঙ্গে রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে রনি বলেন, ‘নিজের বউকে নিয়ে কখনো কেউ লং ড্রাইভে যায় না; অন্যের বউ নিয়ে যায়, অন্যের বান্ধবী নিয়ে যায়। একা একা, আশপাশে যেন কেউ না থাকে এবং গাড়ির গ্লাসগুলো সব আটকানো থাকে—দ্যাট কলড লং ড্রাইভ।’
রাজনীতিতে ‘লং ড্রাইভ’ শব্দটি ব্যবহার করলে সেটিকে একটি ‘মাইলফলক’ হিসেবে উল্লেখ করেন রনি। তিনি বলেন, ‘তো সেদিক থেকে রাজনীতিতে যদি আপনি এটাকে লং ড্রাইভ শব্দটি ব্যবহার করেন, তাহলে এটা একটা মাইলফলক। এখানে রাজনীতির পরকীয়াটা কী?’
নিজের তোলা ‘রাজনৈতিক পরকীয়া’ প্রশ্নের ব্যাখ্যায় লংমার্চে গাড়ি ব্যবহারের প্রসঙ্গ টেনে গোলাম মাওলা রনি বলেন, ‘এখানে কী পরকীয়া আছে? তারা যে লং ড্রাইভ করছেন, কার হয়ে, কার জিনিস নিয়ে, কী কারণে বা কার স্বার্থে যাচ্ছেন—সেটাই প্রশ্ন।’
তিনি বলেন, ‘আমরা যারা দীর্ঘদিন ধরে পেশায় আছি, তাদের কাউকে স্বপ্রণোদিত হয়ে কেউ গাড়ি দিয়ে বলে না, ভাই, আমার গাড়িটা নিয়ে যান। অথচ এই লং ড্রাইভে নাসিরউদ্দিন পাটোয়ারীকে অনেক মানুষ টেলিফোন করে একটি প্রাডো গাড়ি দিয়েছেন, যাতে তিনি ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যেতে পারেন।’
প্রাডো গাড়ি দেওয়ার প্রসঙ্গে রনি আরও বলেন, ‘যাদের প্রাডো গাড়ি আছে, তারা অনেকে নিজেদের স্ত্রীর চেয়েও গাড়িকে বেশি ভালোবাসেন। সেই গাড়ি এখানে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কী পরিমাণ লং ড্রাইভ হয়েছে, কী পরিমাণ পরকীয়া হয়েছে এবং কী পরিমাণ লেনদেন হয়েছে, তা আরশের মালিক আল্লাহ ছাড়া কেউ বুঝতে পারেন না।’
এর আগে একই অনুষ্ঠানে জ্বালানি সংকটের মধ্যে ১১ দলীয় জোটের লংমার্চে প্রায় এক হাজার গাড়ি ব্যবহারের প্রসঙ্গও তোলেন গোলাম মাওলা রনি। এ কর্মসূচিতে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি খরচ হবে বলে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খানের বক্তব্যের সমালোচনা করেন তিনি।
রাশেদ খান দাবি করেছিলেন, এক হাজার গাড়ি নিয়ে চট্টগ্রাম যাওয়ায় প্রায় এক লাখ লিটার তেল খরচ বা অপচয় হতে পারে। এতে দেশের জ্বালানি সংকট আরও বাড়তে পারে।
এ বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে রনি রাশেদ খানকে ব্যঙ্গ করে বলেন, এক লাখ লিটার তেলের হিসাব গুনে গুনে দেওয়ার মতো ‘গাণিতিক জ্ঞান’ তার ও অনুষ্ঠানের আরেক আলোচকের নেই। পাশাপাশি রাশেদ খানের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি।


