

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেছেন, ‘বাহাত্তর থেকে পঁচাত্তর না বুঝলে বিগত ১৬ বছরের ডিএনএ চেনা যাবে না।’একইসঙ্গে তিনি ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বাস্তবায়নে ব্যক্তিগত উদ্যোগ নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
ফারুকী লিখেছেন, ‘রাঁধুনির খুঁতখুঁতানি আকারে কয়েকটি কথা বলতে চাই। তার আগে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাতে চাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে। এই জাদুঘর উদ্বোধনের পেছনে তার ব্যক্তিগত কমিটমেন্ট ছিল ২০০ ভাগ। পাশাপাশি বর্তমান সরকারের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ ও তরুণ সদস্যের ভূমিকাও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।’
এরপর জাদুঘর নিয়ে নিজের কয়েকটি পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন তিনি।
ফারুকীর মতে, জুলাই জাদুঘরে প্রশিক্ষিত ‘মিউজিয়াম এক্সপ্লেইনার’ থাকা অত্যন্ত জরুরি। তার ভাষায়, কেবল তথ্য উপস্থাপন করলেই হবে না; দর্শকদের সামনে ইতিহাসকে গল্পের মতো করে উপস্থাপন করতে হবে, যাতে তারা একটি পূর্ণাঙ্গ ও আবেগঘন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে পারেন।
তিনি জানান, জাদুঘরের কনটেন্ট পরিকল্পনার সময় এমনভাবেই বিষয়টি সাজানো হয়েছিল। এমনকি ভিআইপি পরিদর্শনের সময় তিনি নিজেও এক্সপ্লেইনারের দায়িত্ব পালন করতেন। কিন্তু এখনো এ পদে কাউকে নিয়োগ না দেওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে দ্রুত নিয়োগের আহ্বান জানান তিনি।
জাদুঘরের প্রদর্শনী ঘুরে দেখানোর ধরন নিয়েও আপত্তি জানান ফারুকী। তিনি বলেন, একটি সিনেমা যেমন মাঝপথ থেকে দেখা যায় না, তেমনি এই জাদুঘরেরও একটি ধারাবাহিক বর্ণনা রয়েছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭২-৭৫ সময়কাল, জিয়াউর রহমানের শাসন, এরশাদের স্বৈরশাসন, খালেদা জিয়ার সময় গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তন এবং ওয়ান-ইলেভেন—এসব ধাপ পেরিয়েই দর্শককে ১৬ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রবেশ করতে হবে।
তিনি আক্ষেপ করে লেখেন, উদ্বোধনের দিন প্রধানমন্ত্রীকে সেই ধারাবাহিকতা অনুসরণ না করে মাঝপথ থেকে জাদুঘর ঘুরিয়ে দেখানো হয়েছে। এতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে কষ্ট পেয়েছেন। পরে প্রধানমন্ত্রীকে আবার সময় নিয়ে পূর্ণাঙ্গ গাইডেড ট্যুর করারও অনুরোধ জানান বলে উল্লেখ করেন।
ফারুকী আরও বলেন, তিনি আশা করেছিলেন ‘বাহাত্তর থেকে পঁচাত্তর’, ‘ফ্যাসিবাদের কালে সাংবাদিকতা’, ‘জুলাইয়ে প্রবাসী’ এবং ‘জুলাইয়ের আত্মা: মফস্বল’—এই চারটি বিষয় আলাদা সেকশন হিসেবে প্রস্তুত থাকবে। তবে সেগুলো এখনো স্বাধীন প্রদর্শনী হিসেবে গড়ে ওঠেনি।
তার ভাষায়, ‘বাহাত্তর থেকে পঁচাত্তর না বুঝলে বিগত ১৬ বছরের ডিএনএ চেনা যাবে না।’
এ ছাড়া জাদুঘরের জন্য যারা বিভিন্নভাবে তথ্য-উপাত্ত ও উপকরণ সংগ্রহে সহায়তা করেছেন, তাদের অনেককে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলেও আক্ষেপ প্রকাশ করেন ফারুকী। তাদের যথাযথ সম্মান জানানো প্রয়োজন ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।