

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত একটি তথ্যচিত্রকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তথ্যচিত্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ‘এক দফা’ ঘোষক হিসেবে দেখানো হয়। এর প্রতিবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠান বয়কট করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা।
এরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনায় উঠে এসেছে ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের একটি পোস্টও। সে স্ট্যাটাসে দেখা যায় দলটি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলামকে ‘এক দফা’ ঘোষণাকারী হিসেবে উল্লেখ করেছিল। দুই বছরের ব্যবধানে এই অবস্থান পরিবর্তনের অভিযোগ ঘিরেই তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত একটি তথ্যচিত্র ঘিরে বুধবার ( ৫ আগস্ট) নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, তথ্যচিত্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ‘এক দফা’ ঘোষক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। শুধু তাই নয়, ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত ছাত্র-জনতার কর্মসূচির উল্লেখও তথ্যচিত্রে ছিল না বলে অভিযোগ ওঠে। একই সঙ্গে জুলাই আন্দোলনের শহীদ আবু সাঈদের অবদানের কোনো দৃশ্যও দেখানো হয়নি।
তথ্যচিত্র প্রদর্শন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মিলনায়তনের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিবাদের আওয়াজ ওঠে। একপর্যায়ে উপস্থিত অনেকে দাঁড়িয়ে উচ্চস্বরে আপত্তি জানান। এতে পুরো মিলনায়তনে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব মাহিন সরকার অভিযোগ করেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত ডকুমেন্টারিতে এক দফার ঘোষক হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেখানো হয়েছে। কিন্তু আমরা সবাই জানি, এক দফা ঘোষণা করেছিলেন নাহিদ ইসলাম। ইতিহাস বিকৃত করায় আমি তাৎক্ষণিকভাবে অনুষ্ঠান বয়কটের ঘোষণা দিলে বিএনপির নেতাকর্মীরা আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। পরে আমি অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করি।’
পরবর্তীতে নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে মাহিন সরকার লিখেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত ডকুমেন্টারির প্রতিবাদ করেছি। রাষ্ট্রপতির সামনে আমাকে হামলা করা হয়েছে এবং আমি এটি নিয়ে গর্বিত। ওই ডকুমেন্টারিতে এক দফার ঘোষক বানানো হয়েছে তারেক রহমানকে। যে নাহিদ ইসলাম নিজের মৃত্যুপরোয়ানায় সই করে এক দফার ঘোষণা দিলেন, তিনি বিএনপির ইতিহাসে নেই।’
এর কিছুক্ষণ পর মঞ্চে উঠে বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমি জুলাই যোদ্ধাদের একজন হয়ে এবং আমার দলের একজন প্রতিনিধি হিসেবে এই প্রোগামের সফলতা কামনা করি; কিন্তু আমার ব্যক্তিগত পক্ষে এবং আমার যে সহযোদ্ধারা আছেন, তাদের জন্য একটি সুন্দরের আকাঙ্ক্ষায় আমার পক্ষে এই প্রোগামে অবস্থান করা সম্ভবপর নয়।’
আখতার আরও বলেন, ‘আমি আজকের এই অনুষ্ঠানের মাননীয় রাষ্ট্রপতি, তাঁকে আমি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করি। তিনি বাংলাদেশের পক্ষে যেভাবে অবস্থান নিয়েছেন, সেটাকে আমরা ধারণ করি। তিনি একই সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা, একই সঙ্গে জুলাই যোদ্ধা, তাঁর প্রতি সম্মান ব্যক্ত করছি। সেই সম্মান রেখে আমি নীরবে এখান থেকে প্রস্থান করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলাম।’
মঞ্চ ছাড়ার আগে এনসিপির সদস্যসচিব বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় একটা প্রোগ্রামেও আমরা ইতিহাসের সবকিছুকে আমরা ধারণ করতে ব্যর্থ হলাম। আপনারা খেয়াল করে দেখবেন, এই বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে যেমন একপেশেভাবে আওয়ামী লীগ দখল করেছিল; ঠিক একই ধরনের একটা পরিস্থিতি এখানে তৈরি হয়েছে।’
আখতার হোসেন অভিযোগ করেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্যচিত্রে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ৯ দফার কথা উল্লেখ করা হয়নি। ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট শহীদ মিনারে যে এক দফার ঘোষণা দেওয়া হলো, সে বিষয়টাও নেই।