

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সমাজে পালিয়ে বিয়ের ঘটনা নতুন নয়, তবে সাম্প্রতিক সময়ে এ ধরনের ঘটনার সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে বলে মনে করছেন সামাজিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে পারিবারিক সম্মতি ছাড়া বিয়ে করার প্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে ধর্মীয় ও সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে।
ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী বিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র চুক্তি, যা কেবল দুই ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়—বরং দুই পরিবার ও সামাজিক কাঠামোর সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পৃক্ত। এ কারণে ইসলামে বিয়ের ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত ও নিয়ম নির্ধারিত রয়েছে।
আলেমদের মতে, মুসলিম নারীর বিয়ের ক্ষেত্রে অভিভাবকের (ওয়ালি) অনুমতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অধিকাংশ ফিকহবিদের অভিমত অনুযায়ী, অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া নারীর বিয়ে বৈধ নয় বা অন্তত তা গুরুতরভাবে নিরুৎসাহিত। হাদিসে উল্লেখ রয়েছে যে, “অভিভাবক ছাড়া কোনো নারীর বিয়ে বৈধ নয়”—এমন মত বহু ইসলামী চিন্তাবিদের মধ্যে গ্রহণযোগ্য।
অন্যদিকে, কিছু মাজহাব—বিশেষ করে হানাফি মত অনুযায়ী—প্রাপ্তবয়স্ক নারী নিজের সিদ্ধান্তে বিয়ে করতে পারেন, তবে শর্ত হচ্ছে, পাত্র উপযুক্ত (কুফু) হতে হবে এবং বিয়েটি সামাজিকভাবে ক্ষতিকর না হয়। তবুও, এই মতের মধ্যেও অভিভাবকের পরামর্শ ও সম্মতিকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পালিয়ে বিয়ে অনেক সময় পারিবারিক দ্বন্দ্ব, সামাজিক অস্থিরতা এবং ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এতে মেয়েদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়েও ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে তাই বিয়ের আগে পরিবারকে অবগত করা, তাদের সম্মতি নেওয়া এবং সামাজিক স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে সম্পর্ক গড়ে তোলাই উত্তম বলে মত দিয়েছেন আলেমরা।
সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, তরুণদের উচিত আবেগের চেয়ে বাস্তবতা বিবেচনা করা এবং পারিবারিক সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান খোঁজা।
ইসলামে বিয়ে সহজ করা হলেও তা শৃঙ্খলার মধ্যে সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া পালিয়ে বিয়ে করার বিষয়টি তাই ধর্মীয়ভাবে বিতর্কিত এবং সামাজিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত।
মন্তব্য করুন
