

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় গভীর রাতে মাদক মামলার এক আসামির বাড়িতে গিয়ে স্থানীয় জনতার হাতে আটক হয়ে গণপিটুনির শিকার হয়েছেন পুলিশের এক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই)। পরে পুলিশ সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের বলিভদ্রদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত পুলিশ কর্মকর্তা মো. ইমরান হাসান (৪০) রামকান্তপুর ইউনিয়নের সহকারী বিট কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে তিনি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বলিভদ্রদিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. মেহেদী হাসান (২৮)-এর বিরুদ্ধে সালথা ও পার্শ্ববর্তী বোয়ালমারী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই মামলার সূত্র ধরে এএসআই ইমরান প্রায়ই মেহেদীর বাড়িতে যাতায়াত করতেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আগে থেকেই নানা গুঞ্জন ছিল।
ঘটনার রাতে এএসআই ইমরান সাদা পোশাকে একাই মেহেদীর বাড়িতে গেলে স্থানীয়রা তাকে সন্দেহজনক অবস্থায় আটক করে মারধর করে। পরে খবর পেয়ে সালথা থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটনাটির ১ মিনিট ১৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, সাধারণ পোশাকে থাকা ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে আহত অবস্থায় জিজ্ঞাসাবাদ ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে। ভিডিওতে উপস্থিত এক ব্যক্তিকে তার কাছ থেকে ‘আপত্তিকর সামগ্রী’ উদ্ধারের দাবি করতে শোনা গেলেও, ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
মাদক মামলার আসামি মেহেদী হাসানের পরিবারের দাবি, ঘটনাটি মাদক সংক্রান্ত নয়; বরং পরকীয়াজনিত। তাদের অভিযোগ, এএসআই ইমরান দীর্ঘদিন ধরে মেহেদীর স্ত্রীকে কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন এবং ঘটনার রাতে গোপনে ঘরে প্রবেশ করলে এলাকাবাসী তাকে হাতেনাতে আটক করে।
অন্যদিকে, এএসআই ইমরান হাসান দাবি করেন, তিনি মাদক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে সেখানে গিয়েছিলেন। তবে গভীর রাতে একা এবং সাদা পোশাকে অভিযানে যাওয়ার বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান জানান, মাদক মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গেলে স্থানীয়রা ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে আটক করে মারধর করে। কেন তিনি একা এবং পুলিশের পোশাক ছাড়া সেখানে গিয়েছিলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মন্তব্য করুন