

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সড়ক দুর্ঘটনায় কেবল আঘাতেই নয়, বরং দুর্ঘটনার পর গাড়ি থেকে বের হতে না পেরে আটকা পড়ে মৃত্যুর হার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। বিশেষ করে দেশে ব্যবহৃত আধুনিক প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাসসহ অন্যান্য গাড়িগুলোতে থাকা 'সেন্ট্রাল অটো-লক' সিস্টেম অনেক ক্ষেত্রে যাত্রীদের জন্য আশীর্বাদের চেয়ে অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চালক লক না খুললে যাত্রীদের পক্ষে বাইরে বের হওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার সময় জীবন বাঁচাতে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
আধুনিক অধিকাংশ গাড়িতেই নিরাপত্তার খাতিরে 'অটো-লক' বা 'চাইল্ড লক' ফিচার থাকে। অনেক ক্ষেত্রে চালক গাড়ি স্টার্ট দেওয়ার পর নিরাপত্তার অজুহাতে সব দরজা একযোগে লক করে দেন।
নিয়ম অনুযায়ী, দুর্ঘটনা বা প্রচণ্ড ঝাঁকুনিতে এই লক স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে যাওয়ার কথা। কিন্তু নিম্নমানের ফিটিংস, যান্ত্রিক ত্রুটি বা বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে দুর্ঘটনার মুহূর্তে এই সিস্টেম কাজ করে না। ফলে গাড়ি যখন খাদে পড়ে বা আগুন ধরে যায়, তখন ভেতরে থাকা যাত্রীরা শত চেষ্টা করেও দরজা খুলতে পারেন না। চালক আহত বা অচেতন থাকলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক চালক যাত্রীদের ওঠা-নামার ক্ষেত্রে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখতে ইচ্ছে করেই ম্যানুয়েল আনলক অপশনটি অচল করে রাখেন। যাত্রীরা চাইলেও যাতে মাঝপথে নামতে না পারে বা তাদের অজান্তে দরজা না খোলে, সেজন্য এই কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়। কিন্তু জরুরি অবস্থায় বা প্রাণ বাঁচাতে এই নিয়ন্ত্রণই কাল হয়ে দাঁড়ায়। গাড়ির মালিকদেরও এ বিষয়ে কোনো মাথাব্যথা দেখা যায় না। অনেক সময় পুরনো গাড়িতে নিম্নমানের অটো-লক সিস্টেম সংযোজন করা হয়, যা দুর্ঘটনার সময় জ্যাম হয়ে যায়।
অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারদের মতে, একটি আদর্শ অটো-লক সিস্টেমের সাথে 'ইমার্জেন্সি রিলিজ' বা 'গ্লাস ব্রেকার' থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু আমাদের দেশের অধিকাংশ প্রাইভেট বা রেন্ট-এ-কার সার্ভিসে এগুলো থাকে না। অগ্নিকাণ্ড বা পানিতে গাড়ি নিমজ্জিত হওয়ার ক্ষেত্রে ইলেকট্রিক সার্কিট শর্ট হয়ে যাওয়ায় অটো-লক সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ে। তখন ভেতর থেকে ধাক্কা দিয়েও দরজা খোলা সম্ভব হয় না।
করণীয়:
প্রযুক্তি মানুষের নিরাপত্তার জন্য, মৃত্যুর ফাঁদ হওয়ার জন্য নয়। চালক এবং মালিকদের অতি-সতর্কতা বা উদাসীনতা যেন কোনো প্রাণ কেড়ে না নেয়, সেদিকে নজর দেওয়া এখন সময়ের দাবি। প্রশাসন ও বিআরটিএ-এর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা ও ফিটনেস পরীক্ষায় লকিং সিস্টেমের কার্যকারিতা যাচাই করা জরুরি। অন্যথায়, দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িতে আটকা পড়ে মৃত্যুর এই মিছিল থামানো সম্ভব হবে না।
লেখক: মো. মিলন
মন্তব্য করুন