

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সরকারের বয়স এখনো দু মাস পেরোয়নি। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে সৃষ্টি হওয়া বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের সংকট মিসাইলের গতিতে ধেয়ে আসছে বাংলাদেশের দিকেও। যা নতুন যেকোনো সরকারের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং বিষয়। এতে করে দেশের তাবত অর্থনীতি পড়তে যাচ্ছে হুমকির মুখে। তার ওপর সংসদে শুরু হয়েছে বিরোধী দলের চাপ! বিশেষত সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়ে সরকার ও বিরোধীদল এখন মুখোমুখি। ইতিমধ্যে রাজপথের কর্মসূচিও পালন করেছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট। ফলে দেশের ভেতর ও বাহির মিলে দ্বিমুখী চাপ ও সংকটে পড়েছে সরকার।
চাপটা দ্বিমুখী হলেও সরকারকে লড়াই করতে হচ্ছে ত্রিমুখী। মূলত তেল নিয়ে দেশের ভেতর বাহির মিলে আবার সৃষ্টি হয়েছে দুই ধরনের সংকট। একদিকে আন্তর্জাতিক লিংক লবিং মেইনটেইন করে জ্বালানি তেল আনতে হচ্ছে। এতে মার্কিন ব্লক ও রুশ ব্লকের মধ্যে থাকা দ্বন্দ্বও সামলাতে হচ্ছে। অন্যদিকে দেশের ভেতর বিদ্যমান তেল সঠিক ও সুষ্ঠুভাবে গ্রাহকদের নিকট পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছে সরকার। সরকার পর্যাপ্ত তেলের কথা বললেও বাস্তবে পাম্পে সংকট, দীর্ঘ লাইন ও চাহিদা না মেটায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় পড়েছে দিশেহারা অবস্থায়।
বাস্তবতা বিবেচনায় দেখা গেছে, তেল এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত থাকলেও অসাধু সিন্ডিকেটের মজুতদারি ও সাধারণ মানুষের আগাম রিজার্ভের চিন্তা এই সংকটকে দিনদিন বাড়াচ্ছে। যদিও ইতিমধ্যে অবৈধভাবে মজুত করা বহু তেল উদ্ধার করেছে সরকার। তবে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ হওয়া বেশ কিছু ভিডিওতে দেখা গেছে সাধারণ অনেক বাইকাররা তেল থাকা সত্ত্বেও তেল নিতে গেলে অল্পতেই তেলের ট্যাংকি ফুল হয়ে উপচে পড়ে যাচ্ছে। তাছাড়া ইরান মার্কিন জোটের যুদ্ধ আরও দীর্ঘ হলে কী হবে এমন চিন্তায় ব্যবসায়ী নয় এমন অনেকেই প্রতিনিয়ত তেলের পাম্পে ভিড় করে তেল নিয়ে জমা করছে। এ বিষয়ে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, যে পরিমাণ তেল দেওয়ার কথা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু ইরান ঘটনার পর, আগে যা দেড়দিনে বিক্রি হতো, এখন তা দুই ঘণ্টায় বিক্রি হয়। মানুষ আতঙ্কিত হয়ে, লাইন দিচ্ছে। মূলত তেল নিয়ে সংকটের অন্যতম বিষয় হচ্ছে এটি।
তেল নিয়ে ভেতর বাহিরের দুই সংকটের সাথে লড়াই করার পাশাপাশি সরকারের তৃতীয় লড়াই বিরোধী দলীয় রাজনীতির সাথে। যদিও বিরোধী দলীয় রাজনীতির এই লড়াই থামানো বা চালু রাখা অনেকটাই সরকারের নিজের হাতেই। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ঐক্যমত্য কমিশনের মাধ্যমে হওয়া সংস্কারগুলোর ব্যাপারে সরকার স্থির থাকলে বিরোধিতা কমতে পারে বলছেন বিশ্লেষকরা। যা বৈশ্বিক চাপের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি দেবে সরকারকে। তবে বাস্তবে তা হবে কিনা তা এখনো অনিশ্চিত।
সবমিলিয়ে সরকারের ওপর থাকা সংকট ও চাপ স্পষ্ট। স্পষ্ট লড়াইয়ের জায়গাগুলোও। কিন্তু এসব জায়গায় সৃষ্ট সমস্যার সমাধান সরকার আদৌ করবে কি না বা করলেও কীভাবে করবে তা দেখার বিষয়।
লেখক: জাওয়াদ আহমাদ, গণমাধ্যমকর্মী।
মন্তব্য করুন