মঙ্গলবার
৩১ মার্চ ২০২৬, ১৭ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
৩১ মার্চ ২০২৬, ১৭ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ও সার সংকটের আশংকা, মোকাবিলায় গৃহীত পদক্ষেপ যথেষ্ট!

শেখ ফরিদ উদ্দিন
প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০২৬, ০২:৫৬ পিএম
এনপিবি গ্রাফিক্স
expand
এনপিবি গ্রাফিক্স

মধ্যপ্রাচ্যে ইরাক ইসরায়েল চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন সংকটে পড়ে কিনা এমন শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি তেল ও সারের সরবরাহ নিয়ে গোটা বিশ্বের মতো চিন্তায় বাংলাদেশের কৃষকরাও।

চাহিদা মতো জ্বালানি তেল না পেয়ে বোরো মৌসুমে সেচ নিয়ে অনেক কৃষক যেমন সমস্যায় পড়েছেন, তেমনি আসন্ন আমন মৌসুমের জন্য সারের সরবরাহ নিয়েও চিন্তা বাড়ছে। মূলত সারের মোট চাহিদার একটি বড় অংশ মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব এবং কাতার থেকে আমদানি করে বাংলাদেশ।

এছাড়া দেশের কারখানাগুলোতে যে সার উৎপাদন হয় সেখানেও বড় ভরসা আমদানিকৃত গ্যাস। কিন্তু উপসাগরীয় এলাকায় চলমান যুদ্ধের কারণে এই সরবরাহ এখন পুরোটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

যদিও সরকারের দাবি, সার নিয়ে শঙ্কার কোনো কারণ নেই। এই মুহূর্তে দেশে যে পরিমাণ সার মজুদ রয়েছে, তা দিয়ে অন্তত এক বছর পর্যন্ত চালিয়ে নেওয়া যাবে।

এছাড়া দীর্ঘমেয়াদে যাতে কোনো সংকট তৈরি না হয়, সেজন্য বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি ও সার সংগ্রহের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলছেন, আমদানির প্রধান উৎস মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে চীন ও মিশরের মতো বিকল্প দেশগুলোর সাথে যোগাযোগ করছে সরকার।

অন্যদিকে বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকেই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রনীত নীতিমালা ২০২৫ বাতিল বা স্থগিতের জন্য সরকারের নিকট জোর দাবী জানিয়ে আসছে সার ডিলারদের সংগঠন বিএফএ। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রনীত নীতিমালাকে জনস্বার্থ বিরোধী আখ্যা দিয়েছে বিএফএ।

নীতিমালা ২০২৫ বাতিল ও ২০০৯ নীতিমালা বহাল রেখে নতুন নীতিমালা প্রনয়নে সরকারের প্রতি জোর দাবী জানিয়ে তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সারা দেশের সার ডিলারগন চলতি বছরের ১১ মার্চ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গনে।

তাদের এ দাবী অচিরেই বাস্তবায়নের জোর দাবী জানায় বিএফএ। অন্যথায় অনতিবিলম্বে সরকার ডিলারদের এ দাবী মেনে না নিলে সারা দেশের সার ডিলার ও খুচরা সার বিক্রেতাগন অচিরেই সারা দেশে সার ক্রয়, বিক্রয়, বিতরণ, সরবরাহ ও পরিবহন বন্ধ রাখার কঠিন আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করে হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

এমন কর্মসূচি ঘোষণা করে ২৯ মার্চ বিএফএ একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পত্রিকায় ও বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রচার ও প্রকাশ করে। নীতিমালা ২০২৫ স্থগিতের দাবী বাস্তবায়নে কৃষিমন্ত্রী মোঃআমিনুর রশিদ কোনরূপ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন নাই বিধায় গত ১১ মার্চ সারা দেশের প্রায় বিশ হাজার সার ডিলার ও খুচরা সার বিক্রেতাগন জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে মানব বন্ধন করে বলে অভিযোগ করে বি এফ এ।

বর্তমানে দেশে যেমন একদিকে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার হিমশিম খাচ্ছে তার সাথে আবার সারের ডিলারদের কৃষক পর্যায়ে সার ক্রয় বিক্রয় বন্ধসহ সকল কার্যক্রম বন্ধের হুমকি। এমন পরিস্থিতিতে দেশে কৃষি সেক্টরে এক ভয়াবহ বিশৃঙ্খলা বিরাজ করার আশংকা রয়েছে। যার দায়ভার সরকারকেই বহন করতে হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে সামনে আমন মৌসুমে কৃত্রিম সার সংকট তৈরী করা হলে দেশে উদ্ভুত বেসামাল পরিস্থিতির জন্য সরকার বেকায়দায় পড়ে যাবে বলে আশংকা করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য সরকারের করনীয় বলে অনেকে মনে করেন, অনতিবিলম্বে দেশে সার সংকট দূরীকরণ ও কৃষি সেক্টরে শৃঙ্খলা বজায় রাখা সরকারের জন্য জরুরী।

অন্তর্বর্তী সরকারের একতরফা সিদ্ধান্তে তড়িঘড়ি করে বিশেষ মহলকে সুবিধা দেয়ার লক্ষ্যে প্রনীত সার নীতিমালা ২০২৫ এর কার্যক্রম আপাতত স্থগিত ঘোষণা করা হউক। তার সাথে সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের মতামত নিয়ে নতুনভাবে জনস্বার্থে একটি যুগোপযোগী নীতিমালা প্রনয়নের জন্য সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত বলে দেশপ্রেমিক সকল অংশীদাররা মনে করেন।

জ্বালানি ও সার সংকট মোকাবিলায় এখন প্রশ্ন হলো,সরকারের দাবী অনুযায়ী এক বছরের চাহিদা অনুযায়ী বাস্তবেই সারের মজুত রয়েছে কিনা, যা সার সংকট মোকাবিলায় সরকার সামাল দিতে পারবে।

অপরদিকে জ্বালানি তেলের সংকট মোকাবিলায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ সমূহ যথেষ্ট কিনা , যা জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার প্রকৃতপক্ষে সামাল দিয়ে এ বৈতরণী কাটিয়ে উঠা সম্ভব। যদিও সরকার প্রধান তারেক রহমানের এ সকল কৃত্রিম সংকট মোকাবিলায় তাঁর রয়েছে যথেষ্ট আন্তরিকতা ও জোরালো প্রচেষ্টা।

বৈশ্বিক সকল সমস্যাবলী অত্যন্ত দক্ষতার সহিত সরকার মোকাবিলা করে রাষ্ট্র পরিচালনায় সফলতার সাথে এগিয়ে যাক এটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন