

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোর একটিতেও সভাপতির দায়িত্বে বিরোধী দলের সদস্যদের কাউকে না রেখেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সবকটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এতে করে মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত ৩৯টি কমিটির সবগুলোর সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন সরকারি দলের জোটের নেতারা। শুধু সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি হয়েছেন বিরোধীদলীয় উপনেতা জামায়াতে ইসলামের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) প্রতিরক্ষা, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ, জনপ্রশাসন এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত চারটি কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে সংসদীয় কমিটি গঠনের কাজ শেষ হয়।
জুলাই জাতীয় সনদের প্রস্তাব অনুযায়ী সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত কমিটির সভাপতির দায়িত্ব বিরোধী দলের সদস্যের পাওয়ার কথা। কিন্তু সেই কমিটির সভাপতি হয়েছেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। বৃহস্পতিবার তাকে এ কমিটির সভাপতি করা হয়।
এদিন চিফ হুইপ বাকি থাকা চারটি মন্ত্রণালয়ের কমিটি গঠনের প্রস্তাব পৃথকভাবে তুললে কণ্ঠভোটে তা গ্রহণ করা হয়।
এদিন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি হন সরকারি দলের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপু।
সভাপতির পদ নিয়ে বিরোধী দলের ক্ষোভ
কমিটি গঠন শেষে জামায়াতের হুইপ রফিকুল ইসলাম খান বলেন, “বিরোধী দলকে কোনো জায়গায়, একটা জায়গাতেও মন্ত্রণালয়ের সভাপতি পদ দেওয়া হয়নি।”
এর আগে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান, বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামও এ বিষয়ে আপত্তি তুলেছিলেন।
সদস্য বণ্টনেও আপত্তি
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, সদস্য বণ্টনের ক্ষেত্রেও বিরোধী দলের দেওয়া তালিকা অনুসরণ করা হয়নি। তিনি বলেন, প্রথমে প্রতিটি কমিটিতে তিনজন করে সদস্য চাওয়া হয়েছিল। পরে সরকারি দলের পক্ষ থেকে ২৬ শতাংশ প্রতিনিধিত্বের কথা বলা হয়।
“আমরা যেভাবে তালিকাটা দিয়েছিলাম যে এই মন্ত্রণালয়ে বিরোধী দলের তিনজন, এই মন্ত্রণালয়ে দুইজন, সেখানে ‘ডিস্টরশন’ করা হয়েছে।” তার অভিযোগ, কোথাও দুইজন, কোথাও তিনজন এবং কোনো কোনো কমিটিতে চারজন বিরোধী দলের সদস্য রাখা হয়েছে। পরবর্তী অধিবেশনে এসব সংশোধনের দাবি জানান তিনি।
২২ কমিটিতে তিনজন করে
বিরোধী দলের অভিযোগের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, ২৬ শতাংশ হিসাব করেই সদস্য বণ্টন করা হয়েছে। কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকলে বিরোধী দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে তা সংশোধনের আশ্বাস দেন তিনি। এদিকে চিফ হুইপ ও সরকারি দলের হুইপদের সংসদীয় কমিটির সভাপতি করার বিষয়ে আবারও প্রশ্ন তুলেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
এদিন চিফ হুইপ মনি ও হুইপ অপুকে দুটি কমিটির সভাপতি করার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “নির্বাহী বিভাগতো জবাবদিহি করবে আইনসভার কাছেই। কিন্তু নির্বাহী বিভাগ যদি নিজেই কমিটির সভাপতি হয়, তাহলে কার কাছে জবাবদিহি করবে?”
এর আগে গত মঙ্গলবার তিনি বলেছিলেন, সংসদীয় ব্যবস্থার ‘স্পিরিট’ হল বেসরকারি সদস্যরা কমিটির সভাপতি হবেন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী সদস্য থাকবেন।
ভবিষ্যতে কমিটি পুনর্গঠনের সময় সংসদীয় গণতন্ত্রের এই মূল চেতনা বিবেচনায় রাখতে চিফ হুইপকে পরামর্শ দেন তিনি।



