

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ধর্মীয় নেতা ও সেবাকর্মীদের রাষ্ট্রীয় সম্মানি কার্যক্রম সম্প্রসারণে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)। এ অর্থের মাধ্যমে দেশের ৮৬ হাজার ৭০৯টি প্রতিষ্ঠানের ২ লাখ ৫৬ হাজার ৭৪ জন ধর্মীয় নেতা ও সেবাকর্মীকে রাষ্ট্রীয় সম্মানির আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, ধর্মীয় প্রধানদের সম্মানি প্রকল্পের পাইলটিং পর্যায়ে ৪ হাজার ৬৮৩ জন ইমাম, ৪ হাজার ৩১২ জন মুয়াজ্জিন, ৩ হাজার ৭৮৪ জন খাদেম, ৫৮৬ জন পুরোহিত, ৪২২ জন সেবাইত, ৯৫ জন বৌদ্ধ অধ্যক্ষ এবং ৬৭ জন উপাধ্যক্ষসহ মোট ১৩ হাজার ৯৪৯ জনকে ভাতা দেওয়া হয়েছে।
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর তাৎপর্য তুলে ধরে কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন বলেন, মহান আল্লাহ হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে ‘রহমাতাল্লিল আলামীন’ হিসেবে প্রেরণ করেছেন। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনের প্রতিটি দিক ও অধ্যায় বিশ্বের মানুষের জন্য শাশ্বত আলোকবর্তিকা। মহানবী (সা.) অনিন্দ্য ও অনুপম চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। একজন আদর্শ মানুষের প্রয়োজনীয় ইতিবাচক গুণাবলির সমাহার ছিল তাঁর পুণ্যময় চরিত্রে। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে জীবন গড়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
হজ ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘পৃথিবীর ইতিহাসে এমন নজির নেই যে, হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে হাজিরা তাঁদের অব্যয়িত অর্থ ফেরত পেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বলিষ্ঠ উদ্যোগ ও সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশে সেই নজির স্থাপন করা সম্ভব হয়েছে।’
তিনি জানান, ২০২৬ সালের হজে সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাওয়া ৪ হাজার ৩৪১ জন হাজির অনুকূলে মোট ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। ২০২৩ সালে হজের বিমানভাড়া ১ লাখ ৯৭ হাজার ৭৯৭ টাকা থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে চলতি বছর তা কমিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা করা সম্ভব হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আপনাদের সবার কাছে আমাদের নেতা জনাব তারেক রহমানের জন্য বিশেষ দোয়া কামনা করছি। মহান আল্লাহ তাআলা যেন তাঁকে সব ধরনের ষড়যন্ত্র থেকে হেফাজত করেন।’
নিজের রাজনৈতিক জীবনের সংকটের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০০৮ ও ২০০৯ সালে রাজনৈতিক মামলার কারণে তিনি চরম সংকটে পড়েছিলেন। ওই সময় তাঁর হিপ জয়েন্ট ভেঙে যায় এবং চিকিৎসার জন্য তাঁকে সিঙ্গাপুরে যেতে হয়। তিনি এটিকে আল্লাহর অশেষ রহমত হিসেবে দেখেন, যা তাঁকে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের অত্যাচার ও নিপীড়ন থেকে রক্ষা করেছিল। পরে দুবাই বিমানবন্দরে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেপ্তার হলেও মহান আল্লাহর প্রতি সুদৃঢ় বিশ্বাসের কারণে তিনি অলৌকিকভাবে মুক্তি পান বলে দাবি করেন।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে ধর্মমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিকল্পনা এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ঐতিহাসিক ঘোষণার ধারাবাহিকতায় ২০০৫ সালে ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৫’-এর আওতায় প্রতিষ্ঠানটি পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে। উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও আধুনিক জ্ঞানচর্চায় বিশ্ববিদ্যালয়টিকে আরও এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মদ মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী।
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী নাজমুন আক্তারের প্রবন্ধে মুগ্ধ হয়ে ধর্মমন্ত্রী তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে অন্য ১১ জন বিজয়ী শিক্ষার্থীকে উৎসাহিত করতে আরও ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

