মঙ্গলবার
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আসিফ মাহমুদকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে দুদক!

এনপিবি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি ও কেনাকাটায় অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে তার দায়িত্ব পালনকালে মন্ত্রণালয়ে হওয়া বিভিন্ন নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলির নথি চাওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে পরবর্তী ধাপে আসিফ মাহমুদকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে সংস্থাটি।

গত ২ সেপ্টেম্বর আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক।

অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানে উপপরিচালক মো. জাহিদ কালামের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি বিশেষ অনুসন্ধান দল গঠন করা হয়েছে। দলের অন্য সদস্যরা হলেন সহকারী পরিচালক মো. নাছরুল্লাহ হোসাইন এবং উপসহকারী পরিচালক ইমরান আকন ও রোমান উদ্দিন।

আসিফ মাহমুদ ছাড়া অন্য অভিযুক্তরা হলেন- যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্মসচিব শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন এবং উপসচিব মো. মাসুম আহমেদ।

এর পরদিন ৩ সেপ্টেম্বর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে চিঠি পাঠিয়ে আসিফ মাহমুদের দায়িত্বকালীন বিভিন্ন নথি তলব করে দুদক। চিঠিতে আসিফ মাহমুদের দায়িত্ব পালনকালে মন্ত্রণালয়ের অধীন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলি সংক্রান্ত তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ৩৮ উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাকে চলতি দায়িত্ব দেওয়া, তা বাতিল ও বদলি-পদায়ন সংক্রান্ত নথিও চাওয়া হয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা মো. জাহিদ কালামের স্বাক্ষর করা চিঠিতে চাওয়া নথিপত্র আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সরবরাহ করতে বলা হয়েছে। অর্থাৎ, বর্তমানে দুদক মূলত নথি ও তথ্য সংগ্রহ করে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে।

জানা গেছে, আসিফ মাহমুদের দায়িত্বকালে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে অনিয়মের পাশাপাশি কেনাকাটায় একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বেআইনি কাজ করিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে ঘুষ গ্রহণ ও অর্থপাচারের অভিযোগও দুদকে জমা পড়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো প্রমাণিত নয়; অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতেই অনুসন্ধান চলছে।

এদিকে দুদকের অনুসন্ধান শুরুর পর আসিফ মাহমুদ অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, দুদক অনুসন্ধান করলে তার কোনো আপত্তি নেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিষয়টি বর্তমানে অনুসন্ধান পর্যায়ে রয়েছে এবং অনুসন্ধানের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। নথিপত্র যাচাই ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নেওয়ার পর অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ফলে নথিপত্র সংগ্রহ ও যাচাইয়ের পর অনুসন্ধান দল প্রয়োজন মনে করলে আসিফ মাহমুদসহ অভিযোগসংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank