মঙ্গলবার
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খাদ্য নিরাপত্তায় নিরাপদ মজুদ ও গুণগত মানকে অগ্রাধিকার দিতে হবে: খাদ্যমন্ত্রী

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand

দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরাপদ খাদ্য মজুদ ও খাদ্যের গুণগত মানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী মিজ আফরোজা খানম। দুর্যোগ বা সংকটকালীন পরিস্থিতিতে মানুষের জন্য নিরবচ্ছিন্ন খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে আগাম পরিকল্পনা ও পর্যাপ্ত মজুদ রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) খাদ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন খাদ্যমন্ত্রী। খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জসীম উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে সভায় খাদ্য সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা এবং অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় খাদ্য অধিদপ্তরের কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দুটি পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করা হয়।

খাদ্য অধিদপ্তরের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘খাদ্য অধিদপ্তরের কাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সেনসিটিভ। আমাদের সব সময় চিন্তা করতে হয় দেশের খাদ্য ঠিকমতো মজুদ আছে কি না, খাদ্যের গুণগত মান ঠিক আছে কি না এবং দুর্যোগের সময় আমরা মানুষের কাছে ঠিকমতো খাদ্য পৌঁছে দিতে পারব কি না। তাই নিরাপদ মজুদ ও কোয়ালিটি, দুটিই আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

দীর্ঘদিন ধরে খাদ্য অধিদপ্তরে কাজ করা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিজ্ঞতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবার আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব নয়।

অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো ধরনের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুই-একজনের অনিয়মের কারণে পুরো প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না।’

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের অনেক কাজ এখনো সম্পন্ন হয়নি। ফলে গুরুত্বপূর্ণ অনেক দায়িত্ব একসঙ্গে সামনে এসেছে। প্রয়োজন ও গুরুত্ব বিবেচনায় এসব কাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শেষ করতে হবে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে খাদ্য গুদাম ও অবকাঠামোর দুরবস্থার বিষয়টি উল্লেখ করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন মন্ত্রী। মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া খাদ্য গুদামের জরাজীর্ণ অবস্থার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, গুদামটির অবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

দেশের অন্যান্য খাদ্য গুদাম ও স্থাপনার অবস্থাও গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন খাদ্যমন্ত্রী।

খাদ্য পরিদর্শক, ওসি-এলএসডিসহ মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাজের নিয়মিত মূল্যায়নের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। কর্মকর্তাদের উৎসাহিত করতে কাজের মান, গুদামে মজুত খাদ্যের পরিমাণ ও গুণগত মান এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের সন্তুষ্টির বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়ার প্রস্তাব দেন। ভালো কাজের জন্য কর্মকর্তাদের পুরস্কৃত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত না নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সঠিকভাবে তদন্ত ও তথ্য-উপাত্ত যাচাই করতে হবে। সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য ও প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রকৃত দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যাতে শাস্তির শিকার না হন, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন তিনি।

খাদ্য অধিদপ্তরের কার্যক্রম সরেজমিনে দেখতে নিয়মিত বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শনের কথা জানিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনে তিনি খাদ্য অধিদপ্তরে এসে কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করবেন।

তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের আশ্বস্ত করতে চাই, প্রয়োজনীয় সহযোগিতার ক্ষেত্রে আপনারা আমাকে পাশে পাবেন। তবে সবাইকে সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আমরা সম্মিলিতভাবে কাজ করলে খাদ্য অধিদপ্তরকে আরও দক্ষ, সুশৃঙ্খল ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে পারব।’

সভায় খাদ্য সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা খাদ্য অধিদপ্তরের সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। খাদ্য অধিদপ্তরের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে জনবল সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank