

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


যশোরের শার্শায় বিদ্যুৎ না থাকায় মৎস্যঘেরে সাড়ে ১৫ কোটি টাকার মাছ মারা যাওয়ার ঘটনা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগ। এছাড়া প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের জন্য শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। কমিটিকে আগামী দুই কার্যদিবসে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের মিডিয়া সেলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান খান।
এদিকে, গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) দিনগত রাত ১টার দিকে শার্শা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের রায়পুর-সোনামুখো বিলে এএফ মৎস্য খামারে মাছের মড়ক (ঘেরে অক্সিজেনের অভাবে মাছের মৃত্যু) শুরু হয়। পরে শনিবার (২২ আগস্ট) সকালে ঘেরের পানিতে বিপুলসংখ্যক মৃত মাছ ভেসে উঠতে দেখা যায়।
ঘেরমালিকদের ভাষ্য, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ঘেরে প্যাডেল হুইল অ্যারেটর মেশিন বা অক্সিজেন সরবরাহের যন্ত্র চালানো সম্ভব হয়নি। এর সঙ্গে বৈরী আবহাওয়া যোগ হওয়ায় পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা দ্রুত কমে যায়। ফলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিপুলসংখ্যক মাছ মারা যায়। সোনামুখো বিলের ক্ষতিগ্রস্ত ঘেরটির মালিক আলফাজুল হক ও ফারুক হোসেন যৌথভাবে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছিলেন।
তাদের দাবি, এতে প্রায় সাড়ে ১৫ কোটি টাকার মাছের ক্ষতি হয়েছে। তাদের হিসাবে, ২০০ বিঘা আয়তনের ঘেরে প্রায় ৬০ লাখ পাবদা মাছ চাষ করা হয়েছিল। প্রতি ১৫টি পাবদা মাছের ওজন প্রায় এক কেজি ধরে মোট উৎপাদনের পরিমাণ প্রায় ১০ হাজার মণ। প্রতি মণ মাছের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১৫ হাজার টাকা হিসেবে পাবদা মাছের মূল্য প্রায় ১৫ কোটি টাকা। অন্যান্য প্রজাতির মাছসহ মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় সাড়ে ১৫ কোটি টাকা বলে দাবি তাদের।
খামারমালিক আলফাজুল হক বলেন, ঘেরের মাছের বড় একটি অংশ বিক্রির উপযোগী হয়ে উঠেছিল। মারা যাওয়ার আগের দিন কয়েক ঘণ্টা বৃষ্টি হওয়ার পর মেঘাচ্ছন্ন আকাশে তীব্র গরম হয়ে ওঠে পরিবেশ। এরপরই ঘন ঘন লোডশেডিং দেখা দেয়। এতে এমন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। নিজস্ব বিদ্যুৎ ব্যবস্থা না থাকাও ভুল ছিল বলে স্বীকার করেন এই ঘেরমালিক।
আলফাজুল হকের ভাষ্য—মাছের খাদ্য বাবদ বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার মালামাল বাকিতে নেওয়া হয়েছে। মাছ মারা যাওয়ায় সেই ঋণ কীভাবে পরিশোধ করবেন, তা নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
তবে লোডশেডিংয়ের কারণে মাছ মারা গেছে, এমনটা মানতে নারাজ যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান খান। তিনি বলেন, ঘেরে মাছ মারা যাওয়ার ঘটনার সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে কোনো মিল নাই। বিদ্যুৎ বন্ধ থাকার কারণে মাছ মারা যাওয়ার ঘটনা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। ঘটনার দিন ৪০ মিনিট বিদ্যুৎ বন্ধ ছিল। একই বিতরণ লাইনে আরও ১২টি মৎস্যঘের রয়েছে; সেখানে কোনো ধরনের সমস্যা হয়নি।
এদিকে, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের জন্য শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। কমিটির সদস্য করা হয়েছে নাভারণ সার্কেলের এএসপি, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, ওজোপাডিকো-১ নির্বাহী প্রকৌশলী ও উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তাকে।
এই বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, ক্ষয়ক্ষতি ও মাছ মরার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে উচ্চ পর্যায়ে পাঁচ সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। দ্রুত রিপোর্ট দিলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনিরুল মামুন বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে কথা বলেছি, তারা বলছে ৪০ মিনিট লোডশেডিং ছিল। ঘেরের পানির ঘনত্ব কম থাকলে ৪০ মিনিটে মড়ক লাগতে পারে; তবে এমনভাবে মাছ মারা যাওয়ার কথা না।


