বুধবার
১২ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
১২ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পে-স্কেলসহ ১০ দাবিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের কর্মসূচি ঘোষণা

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০২৬, ০১:০৫ পিএম
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক-কর্মচারী চাকরি জাতীয়করণ জোট ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারী সমন্বিত ফোরাম
expand
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক-কর্মচারী চাকরি জাতীয়করণ জোট ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারী সমন্বিত ফোরাম

এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নবম জাতীয় পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্তিকরণ এবং চাকরি জাতীয়করণসহ ১০ দফা দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে শিক্ষক-কর্মচারী, চাকরি জাতীয়করণ জোট ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারী সমন্বিত ফোরাম।

বুধবার (১২ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করে সংগঠনটি।

দাবিগুলো হলো- এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের টাকা প্রচলিত নিয়ম ও বিধি-বিধান মোতাবেক প্রদানের ব্যবস্থাকরণ; বৈষম্য নিরসনে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণ, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের দ্রুত বদলির ব্যবস্থাকরণ, শতভাগ উৎসব ভাতার ব্যবস্থা ও সরকারি নিয়মে বাড়ি ভাড়া প্রদানের ব্যবস্থাকরণ, শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএ এর বদলে পিএসসি-২ এর ব্যবস্থাকরণ, স্বীকৃতিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে এমপিওভুক্তিকরণ, ১ থেকে ১২তম নিবন্ধনধারীদের নিয়োগের ব্যবস্থাকরণ, চাকরির বয়স ৬৫ বয়স উন্নীতকরণ, নৈশ প্রহরীদের প্রচলিত নিয়মে ছুটির ব্যবস্থাকরণসহ দ্বিতীয় নৈশ প্রহরী নিয়োগ।

আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে শিক্ষক-কর্মচারীদের এই ১০ দাবি পূরণ না হলে ৩ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

কর্মসূচিগুলো হলো:

শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে আগামী দশদিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ১০ সদস্য বিশিষ্ট শিক্ষক প্রতিনিধির দলের সাক্ষাতের ব্যবস্থা করতে হবে। আগামী সেপ্টেম্বর- অক্টোবর ২০২৬ এ বিভাগীয় সমাবেশ করে দাবিগুলোর পক্ষে জনমত গঠন করা হবে।

দল মত নির্বিশেষে দেশের শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়ে সংগ্রাম কমিটি গঠন করে দাবি আদায়ের জন্য বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা জসিম উদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমান সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও কল্যাণ-অবসর সুবিধা বোর্ড নিয়ম-নীতি ভঙ্গ করে আগামী ১৫, আগস্ট কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে ৪৪ হাজার আবেদনকারীর প্রত্যেককে আড়াই লাখ টাকা এবং অবসর সুবিধা বোর্ড থেকে ৫ লাখ টাকা একাকলীন প্রদান করতে যাচ্ছে।

তবে বিগত দিনে অবসরপ্রাপ্ত একজন শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ-অবসরের টাকার জন্য আবেদন করলে কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে সর্বশেষ বেতনের ২৫ মাসের সমপরিমাণ অর্থ এবং অবসর সুবিধা বোর্ড থেকে সর্বশেষ বেতনের ৭৫ মাসের সমপরিমাণ অর্থ প্রদান করা হতো। শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রশ্ন হলো এখন কেন কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে সর্বোচ্চ আড়াই লাখ টাকা এবং অবসর সুবিধা বোর্ড থেকে ৫ লাখ টাকা প্রদান করা হবে?

তাছাড়া শোনা যাচ্ছে আগামী দিনে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদেরকে তাদের শুধু জমানো টাকা ফেরত দেওয়া হবে। ফলে শিক্ষক-কর্মচারীদের ধারণা হলো শিক্ষা মন্ত্রণালয় সরকারের সঙ্গে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদেরকে বিষয়ে তোলার কূট কৌশল অবলম্বন করছে। অথচ বিএনপি সরকার এমপিও শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য সর্বমোট ৭০ শতাংশ বেতনের ব্যবস্থা করেছে।

প্রকৃত পক্ষে আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী সমাজ স্বাধীনতার ৫৬ বছর পরেও ভালো নেই। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষার সার্বিক উন্নয়নে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে জিডিপির ২ শতাংশ টাকা বরাদ্দ প্রদান করেছেন। আগামী ৪ বছরের তিনি শিক্ষায় জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের আশ্বাস দিয়েছেন। ইতোমধ্যে সরকার শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ-অবসরের জন্য ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন।

যার ফলে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী সমাজ বর্তমান সরকারের প্রতি আস্থাশীল হতে যাচ্ছে বলেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় বেসরকারি শিক্ষা ও শিক্ষকদের বিরুদ্ধে সূক্ষ্ণ ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। যাতে করে সরকার ও শিক্ষকদের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝিসহ দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয় এবং শিক্ষক-কর্মচারী সমাজ ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী নেতৃবৃন্দ মনে করেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ করলে শিক্ষায় কোন বৈষম্যই থাকবে না। সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়া ২০১০ খ্রিষ্টাব্দের ১২ মে চীন মৈত্রী সম্মেলেন কেন্দ্রে শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রতিনিধি সমাবেশে বলেছিলেন, ভবিষ্যতে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণ করবেন।

২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে আজকের প্রধানমন্ত্রীও শিক্ষক-কর্মচারীদেরকে আশ্বাস দিয়েছিলেন বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের ন্যায্য দাবি পূরণসহ চাকরি জাতীয়করণ করবেন। ব

র্তমান সরকারের ১৮০ দিন শেষ হওয়ার প্রাক্কালেও শিক্ষা মন্ত্রণালয় বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণের বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেয়নি বরং গত ঈদুল আজহার পূর্বে ১০ শতাংশ উৎসব ভাতা বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েও তা বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়েছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন