শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই যোদ্ধাদের ব্যানারে তাণ্ডব, নেপথ্যে আ.লীগ

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০২৫, ০৪:৪১ পিএম আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২৫, ০৪:৪২ পিএম
পুলিশের গাড়িসহ বেশ কয়েকটি ট্রাক ও বাস ভাঙচুর করেন ও আগুন ধরিয়ে দেয়
expand
পুলিশের গাড়িসহ বেশ কয়েকটি ট্রাক ও বাস ভাঙচুর করেন ও আগুন ধরিয়ে দেয়

জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় আজ শুক্রবার ‘জুলাই সনদ’ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান শুরুর আগে ‘জুলাই যোদ্ধা’ ব্যানারে একদল যুবকের তাণ্ডব চালায়। তাদের হামলায় বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন।

তারা দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশের গাড়িসহ বেশ কয়েকটি ট্রাক ও বাস ভাঙচুর করেন ও আগুন ধরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে ও ধাওয়া দেয়।

তারা প্রথমে সংরক্ষিত এলাকায় জাতীয় সংসদ ভবনে ডুকে পড়ে। পরে মঞ্চে উঠে অতিথিদের চেয়ারে বসে স্লোগান দিতে থাকে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র বলছে, এ ঘটনার সঙ্গে আওয়ামী লীগের যোগসূত্র রয়েছে। যার নেপথ্যে রয়েছেন মোহাম্মদপুর এলাকায় আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক।

শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান চলাকালে এ বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটে।

উপস্থিত ব্যক্তিদের বর্ণনা অনুযায়ী, সাদা টি–শার্ট পরিহিত একদল যুবক ‘জুলাই যোদ্ধা’ নামে পরিচয় দিয়ে আচমকা স্লোগান দিতে শুরু করেন এবং মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

যারা গোলযোগে জড়িত ছিল, তারা সবাই একই ধরনের পোশাক পরা অবস্থায় সংগঠিতভাবে আসে। তাদের হাতে ছিল ব্যানার ও পোস্টার, যেখানে জুলাই সনদের দাবির কথা লেখা ছিল।

এই পোশাক ও স্লোগানের সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে—কারা, কোথা থেকে এবং কী উদ্দেশ্যে এই পরিচয়ে অংশ নিল।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, ঘটনাটির পেছনে মোহাম্মদপুর এলাকার এক সাবেক সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন যুবকের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।

রাজনৈতিক মহলের আলোচনায় উঠে এসেছে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় এক নেতা ও যুবলীগ।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের ঘটনা জুলাই সনদের মতো একটি জাতীয় ঐকমত্যমূলক উদ্যোগকে বিতর্কিত করার জন্য করা হয়েছে।

এদিকে, নিরাপত্তা সূত্র জানায়, ঘটনার পর সংসদ ভবন এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে বলে জানান এক পুলিশ কর্মকর্তা।

একাধিক পর্যবেক্ষক মনে করছেন, ‘জুলাই যোদ্ধা’ ব্যানারের আড়ালে তৃতীয় কোনো পক্ষও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করে থাকতে পারে। ঘটনাটি তদন্তে আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নেওয়ার দাবি উঠেছে সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন