শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এসেছেন রাজনৈতিক নেতারা

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০২৫, ০৪:০৭ পিএম আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০২৫, ০৪:৪২ পিএম
বৃষ্টি উপেক্ষা করে যোগ দিচ্ছেন রাজনৈতিক দলের নেতা ও বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ
expand
বৃষ্টি উপেক্ষা করে যোগ দিচ্ছেন রাজনৈতিক দলের নেতা ও বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ

জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অল্প সময়ের মধ্যেই শুরু হবে। বিএনপি, জামায়াতসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও অতিথিরা ইতোমধ্যে এসে পৌঁছেছেন। তবে এনসিপির কোনো প্রতিনিধিকে এখনও দেখা যায়নি।

জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ‘জুলাই সনদ ২০২৫’ স্বাক্ষরের জন্য প্রস্তুত মঞ্চে এসেছেন বিভিন্ন কূটনীতিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও।

শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) সকাল থেকে বৃষ্টি উপেক্ষা করে অনুষ্ঠানস্থলে ভিড় করছেন সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক কর্মীরাও।

প্রধান উপদেষ্টা উপস্থিত হওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে অনুষ্ঠান শুরু হবে।

অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, “সরকারের আমন্ত্রণে আমরা এসেছি। তবে জুলাই সনদ নিয়ে এখনো আলোচনা বাকি রয়েছে। ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি আমাদের সঙ্গে আলোচনার আশ্বাস দিয়েছেন।”

সনদে স্বাক্ষর করবেন কি না—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এটা এখন বলব না, কিছুটা কৌতূহল থাকুক।”

জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় উপস্থিত থেকে পরিবেশ আন্দোলনের নেতা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “জুলাই সনদ স্বাক্ষরের মাধ্যমে বাংলাদেশে আজ থেকে নতুন এক যাত্রা শুরু হচ্ছে।

আশা করছি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অংশীদার সব রাজনৈতিক দলই এ সনদে স্বাক্ষর করবে। অনেকে আজই করবে, আর বাকি দলগুলোও কয়েক দিনের মধ্যেই যোগ দেবে বলে আশা করছি।”

অনুষ্ঠানস্থল ঘিরে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। আয়োজকরা জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়েই শুরু হবে সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান। বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ দেশের শীর্ষ গণমাধ্যমগুলো অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করবে।

প্রধান উপদেষ্টা সবাইকে শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ আমাদের জাতীয় ঐক্যের প্রতীক, সবাই মিলেই একে সফল করতে হবে।’

অন্যদিকে, অনুষ্ঠানস্থলের নিরাপত্তায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে সেনা সদস্যরা। শেরেবাংলা নগর ও আশপাশের সড়কে পুলিশের পাশাপাশি সেনা টহলও জোরদার করা হয়েছে।

এদিকে, দুপুরের দিকে দক্ষিণ প্লাজা এলাকায় ‘জুলাই শহীদের পরিবার ও আহত যোদ্ধারা’ অবস্থান নিলে পুলিশ তাদের সরে যেতে বলে। তারা সাড়া না দিলে লাঠিচার্জের মাধ্যমে সরিয়ে দেওয়া হয়।

পরে আন্দোলনকারীরা সংসদ ভবনের বাইরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং কিছু জায়গায় ভাঙচুরের চেষ্টা করেন।

পুলিশ জানায়, নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে এমন আশঙ্কায় তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

সকাল থেকেই মানিক মিয়া এভিনিউতে বিভিন্ন ব্যানার নিয়ে জুলাই যোদ্ধাদের একাংশ জড়ো হন। পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে তারা দক্ষিণ প্লাজার সামনে পৌঁছে বিক্ষোভ করেন।

তবে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জানিয়েছে, তারা এই অনুষ্ঠানে অংশ নেবে না। বৃহস্পতিবার রাতে এক বিবৃতিতে দলটি জানায়, জুলাই সনদ নিয়ে তাদের কিছু নীতিগত আপত্তি রয়েছে।

এ বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি আলী রীয়াজ জানান, আজকের অনুষ্ঠানেই মূল স্বাক্ষর সম্পন্ন হবে। তবে যেসব রাজনৈতিক দল আজ যোগ দিতে পারেনি, তারা পরবর্তী সময়েও এতে স্বাক্ষর করার সুযোগ পাবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন