

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


গবেষণার নামে উটপাখি জবাই ও সরকারি অর্থ অপব্যবহারের অভিযোগে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) ১৩৪ কোটি টাকার গবেষণা প্রকল্পের আওতায় আনা ২২টি উটপাখির মধ্যে ১৫টি জবাই এবং তিনটির মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ কংগ্রেসের মহাসচিব এ্যাড. মো. ইয়ারুল ইসলাম।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, দেশের জনগণের কষ্টার্জিত করের অর্থ ব্যয়ে পরিচালিত একটি গবেষণা প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশে বাণিজ্যিকভাবে উটপাখি পালনের সম্ভাবনা যাচাই, বাংলাদেশের আবহাওয়ায় অভিযোজন নিশ্চিত করা, বিকল্প মাংসের উৎস সৃষ্টি এবং ভবিষ্যতে খামার সম্প্রসারণের পথ তৈরি করা। অথচ গবেষণার মাঝপথেই অধিকাংশ উটপাখি জবাই করা হয়েছে বলে প্রকাশিত সংবাদ দেশের গবেষণা ব্যবস্থাপনা, জবাবদিহিতা এবং সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহারের বিষয়ে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
তিনি বলেন, মাত্র ২২টি উটপাখির মধ্যে ১৫টি জবাই করা এবং তিনটির মৃত্যু হওয়ার পর বর্তমানে মাত্র চারটি উটপাখি অবশিষ্ট থাকা গবেষণার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যকে কতটা বাস্তবায়ন করতে পারবে, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই জনগণের মধ্যে প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে। গবেষণার নামে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ ব্যয় করে যদি কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জিত না হয়, তবে তার পূর্ণ জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশ কংগ্রেস মনে করে, গবেষণার প্রয়োজনে কোনো প্রাণী ব্যবহারের আন্তর্জাতিক নীতিমালা ও বৈজ্ঞানিক মানদণ্ড রয়েছে। কিন্তু গবেষণার নামে এত বিপুল সংখ্যক প্রাণী জবাইয়ের যৌক্তিকতা, প্রয়োজনীয় অনুমোদন, বৈজ্ঞানিক মূল্য এবং আর্থিক স্বচ্ছতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা জরুরি।
বাংলাদেশ কংগ্রেস আরও উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায়, এর আগে গবেষণাধীন ৩৮টি মোরগ জবাই বা নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছিল। সে ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন আজও প্রকাশ করা হয়নি। ফলে একের পর এক একই ধরনের অভিযোগ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সুশাসন নিয়ে জনমনে সন্দেহ সৃষ্টি করছে।
বাংলাদেশ কংগ্রেস সরকারের প্রতি নিম্নলিখিত দাবিসমূহ জানাচ্ছে,
১. ১৩৪ কোটি টাকার প্রকল্পের সম্পূর্ণ আর্থিক ও প্রশাসনিক নিরীক্ষা (অডিট) করতে হবে। ২. উটপাখি জবাইয়ের সিদ্ধান্ত কারা, কী কারণে এবং কোন বৈজ্ঞানিক ও প্রশাসনিক অনুমোদনের ভিত্তিতে নিয়েছেন তা প্রকাশ করতে হবে। ৩. একটি উচ্চপর্যায়ের স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে। ৪. সরকারি অর্থের অপচয়, দায়িত্বে অবহেলা, ক্ষমতার অপব্যবহার বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ৫. গবেষণার নামে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের অনিয়ম, অপচয় বা জবাবদিহিতাহীনতা যাতে না ঘটে, সে লক্ষ্যে কার্যকর নীতিমালা ও তদারকি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
এ্যাড. মো. ইয়ারুল ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান জনগণের সম্পদ। সেখানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং বৈজ্ঞানিক সততা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। জনগণের অর্থের প্রতিটি টাকার হিসাব জনগণ জানতে চায়। তাই এই ঘটনায় দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে।