রবিবার
২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন পে-স্কেল: চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রস্তুতি, শিগগিরই বাস্তবায়ন

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৪:২৫ পিএম
ফাইল ছবি
expand
ফাইল ছবি

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। অর্থ বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনায় গঠিত কমিটি চলতি মাসেই তাদের মতামত চূড়ান্ত করতে পারে। এরপর বিষয়টি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। সব প্রক্রিয়া শেষ হলে আগস্টের মধ্যেই নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কার্যকারিতা ধরা হবে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নতুন বেতনকাঠামো একবারে কার্যকর হবে, নাকি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে; সে সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা। শুরুতে তিন ধাপের পরিকল্পনা থাকলেও পরে দুই ধাপের বিকল্প নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সুপারিশকারী কমিটি কোনো নির্দিষ্ট মত দেয়নি।

এবারের পে-স্কেলে শুধু মূল বেতন বাড়ানোই নয়, বিভিন্ন ভাতার কাঠামোতেও বড় ধরনের পরিবর্তনের চিন্তা করছে সরকার। বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও যাতায়াত ভাতা নতুনভাবে নির্ধারণের পাশাপাশি কয়েকটি ভাতা একীভূত করার প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে। বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন কিছু সুবিধা যুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা চলছে।

একই সঙ্গে পেনশন ও অবসরকালীন সুবিধার কাঠামো পুনর্বিন্যাসের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। এসব পরিবর্তন কার্যকর করতে একাধিক বিধিবদ্ধ নিয়ন্ত্রক আদেশ (এসআরও) জারি করতে হবে। সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় খসড়া প্রস্তুতের কাজও শুরু হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টিকে এবার অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সে কারণে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন তুলনামূলক বেশি বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

আলোচনায় থাকা প্রস্তাব অনুযায়ী, ১ম থেকে ৯ম গ্রেডে বেতন ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে বৃদ্ধি হতে পারে ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত। তবে এসবই এখনো চূড়ান্ত নয়; মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পরই নির্ধারিত হবে নতুন কাঠামো।

জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ চলতি বছরের জানুয়ারিতে সরকারের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। সেখানে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়।

কমিশনের প্রস্তাবে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ রয়েছে। পাশাপাশি বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশে উন্নীত করা এবং নিম্ন গ্রেডের যাতায়াত ভাতাসহ বিভিন্ন সুবিধা পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সর্বশেষ জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর প্রতিবছর ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি হলেও নতুন কোনো পূর্ণাঙ্গ পে-স্কেল চালু হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে বিদ্যমান কাঠামোর অসামঞ্জস্য নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ছিল।

অর্থ বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য বছরে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। কমিশনের প্রস্তাব পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বেতন-ভাতার জন্য প্রায় ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা এবং পেনশন-গ্র্যাচুইটিসহ মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে নতুন বেতনকাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের জন্য অতিরিক্ত অর্থও সংরক্ষণ করা হয়েছে।

সচিব পর্যায়ের কমিটি সুপারিশ চূড়ান্ত করার পর তা মন্ত্রিসভায় যাবে। অনুমোদনের পর আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং, প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি এবং গেজেট প্রকাশের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগস্টেই গেজেট প্রকাশ হতে পারে, যদিও নতুন পে-স্কেলের আর্থিক কার্যকারিতা গণনা করা হবে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে।

দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় পর আসতে যাওয়া এই বেতনকাঠামো সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য শুধু বেতন বৃদ্ধিই নয়, ভাতা, পেনশন ও অবসর-সুবিধার ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন