বুধবার
২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশের ৫ জেলায় বন্যার আশঙ্কা

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০২৬, ০৬:২১ এএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের ফলে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় কুড়িগ্রামসহ দেশের উত্তরাঞ্চলের ৫ জেলায় আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে এই সময়ে আরও কয়েকটি জেলার নদ-নদীর পানি বেড়ে নদী-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে। সোমবার (২০ জুলাই) পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নিয়মিত বুলেটিনে এই আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে।

আবহাওয়া সংস্থাগুলার তথ্যের বরাতে এতে বলা হয়, আগামী একদিন দেশের অভ্যন্তরে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে এবং তৎসংলগ্ন উজানে ভারতের আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। এই অবস্থায় আগামী ২ দিন উত্তরাঞ্চলীয় রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি সমতল আরও বৃদ্ধি পেতে পারে এবং তৃতীয় দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে। এর ফলে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় কিছু স্থানে এসব নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে এবং লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার নদী-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও আকস্মিক অথবা স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল হ্রাস পেয়েছে। আগামী ৩ দিন এসব নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেতে পারে। এই অবস্থায় আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় কিছু স্থানে এসব নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে এবং সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নদী-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে অথবা উদ্ভূত বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হতে পারে।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের সারিগোয়াইন, যাদুকাটা, জিঞ্জিরাম, সোমেশ্বরী, ভুগাই ও কংস নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী ২ দিন এসব নদীর পানিও বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় ভুগাই, কংস ও সোমেশ্বরী নদীর পানি শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলায় এবং সারিগোয়াইন-যাদুকাটা নদীর সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার কিছু স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে এবং নদী-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি অথবা উদ্ভূত বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হতে পারে।

অন্যদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা নদ-নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে এবং পদ্মা নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল ছিল। আগামী ৫ দিন এসব নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার কিছু স্থানে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে এবং নদী-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও প্লাবিত হতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র আরও জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চলীয় ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় রংপুর এবং রাজশাহী বিভাগের আগার করতোয়া, আপার আত্রাই, টাঙ্গন, পুনর্ভবা, মহানন্দা, যমুনেশ্বরী, আত্রাই ও ঘাঘট নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে করতোয়া ও ছোট যমুনা নদীর পানি সমতল হ্রাস পেয়েছে। আগামী ৩ দিন এসব নদীর পানিও বৃদ্ধি পেতে পারে। এই অবস্থায় আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় আত্রাই ও ছোট যমুনা নদীর পানি নওগাঁ ও নাটোর জেলার কিছু স্থানে সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে এবং নদী-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।

এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় চট্টগ্রাম বিভাগের সাঙ্গু নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে এই সময়ে হালদা নদীর পানি সমতল হ্রাস পেয়েছে ও মাতামুহুরী নদীর পানি সমতল ছিল। আগামী একদিন এসব নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে পারে এবং পরবর্তী ২ দিন দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন