

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে চলমান খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক সম্প্রসারণ প্রকল্পের অগ্রগতি পরিদর্শনে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
দীর্ঘদিন ধরে সড়কের কাজ বন্ধ থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের দুর্ভোগের কথা তার কাছে তুলে ধরেন। এ সময় সড়কের একপাশে স্লুইস গেটের ওপারে বাঁধ দিয়ে পানি নিষ্কাশন বন্ধ থাকার বিষয়টি দেখে কেডিএর কর্মকর্তাদের ওপর অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
বিষয়টির ভুল ব্যাখ্যা শুনে প্রকল্প পরিচালকের (পিডি) উদ্দেশে তিনি বলেন, আমাকে দেখে কি বেকুব মনে হয় তোমার? তুমি এখান থেকে পানি বের হওয়ার রাস্তা তৈরি করেছ। পানি যাতে ঢুকতে না পারে সেজন্য স্লুইসগেট করেছ। আবার তার সামনে দিয়ে রেখেছ বাঁধ। এর মানেটা কী? সড়কের বিভিন্ন স্থান ও বাঁক দেখে এ সময় বিভিন্ন নির্দেশনা দেন তিনি।
কেডিএ থেকে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ৭ মে শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন দেওয়া হয়। শুরুতে প্রকল্প ব্যয় ছিল ৯৮ কোটি টাকা। ২০২০ সালের ২১ জুলাই দ্বিতীয় দফা প্রকল্পের সংশোধনী প্রস্তাব একনেক সভায় উত্থাপন করা হয়। তখন দ্রুত কাজ শেষ করার শর্তে ২৫৯ কোটি টাকার দ্বিতীয় সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।
এরপর আরও ছয় বছর পর প্রকল্পের ব্যয় তৃতীয় দফা সংশোধন করে গত ৯ জুন একনেক সভায় উত্থাপন করা হয়। সভায় প্রকল্পটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দীর্ঘ ১৩ বছরেও সড়কটি কেন শেষ হয়নি, তা জানতে চেয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন তিনি। একইসঙ্গে সভা থেকে ফেরত পাঠানো হয় ২৮০ কোটি টাকার সংশোধনী প্রকল্পটি।
সভায় সড়কের কাজ শেষ না হওয়ার কারণ ও গাফিলতি খুঁজতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্য করা হয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম এবং বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সচিব সিরাজুন নূর চৌধুরীকে। শনিবার (৪ জুলাই) তদন্ত কমিটির সদস্যরা সড়কটি ঘুরে দেখেন।
পরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সাংবাদিকদের বলেন, কেন সড়কটির কাজ এত দিনে শেষ হয়নি, এখন কী অবস্থায় রয়েছে এবং কাজের মান কেমন-তা আমরা দেখে গেলাম। দ্রুত যাতে কাজটি শেষ হয়, সে ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
পরিদর্শন শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খুলনা সার্কিট হাউজে ‘শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন (তৃতীয় সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়ন সভায় যোগদান করেন। সভায় খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন, খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, কেডিএর চেয়ারম্যান এস এম শফিকুল আলম মনা, জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, প্রকল্প পরিচালক মো. আরমান হোসেনসহ বিভাগীয়, জেলা প্রশাসন ও কেডিএর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

