বুধবার
০১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
০১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হলি আর্টিজানে ভয়াবহ হামলার এক দশক

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০১ জুলাই ২০২৬, ০৮:০৪ এএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারি ট্র্যাজেডির এক দশক আজ বুধবার (১ জুলাই) পূর্ণ হলো। ২০১৬ সালের এই দিনে বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় নিহত হন দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ দেশি-বিদেশি মোট ২৯ জন।

দীর্ঘ তদন্ত, বিচার ও সাজা কার্যকরের প্রক্রিয়া এগোলেও ভয়াবহ এই হামলার নেপথ্যের প্রকৃত কারণ এখনো পুরোপুরি উন্মোচিত হয়নি।

হামলাকারীরা বিদেশি নাগরিকদের খুঁজতে শুরু করে এবং মুহুর্মুহু গুলিবর্ষণের মাধ্যমে চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।

ঘটনার পর সেনাবাহিনীর প্যারা-কমান্ডো বাহিনী ‘অপারেশন থান্ডার বোল্ট’ পরিচালনা করে। অভিযানে রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, নিবরাস ইসলাম, মীর সামীহ মোবাশ্বীর, শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল ও খায়রুল ইসলাম পায়েল নামে পাঁচ হামলাকারী নিহত হয়।

হামলার পর গুলশান থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে। মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায় ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট। প্রায় চার বছর তদন্ত শেষে আটজনকে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়।

চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন— জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী, রাকিবুল হাসান রিগ্যান, রাশেদুল ইসলাম ওরফে র‍্যাশ, সোহেল মাহফুজ, মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, হাদিসুর রহমান সাগর, শহীদুল ইসলাম খালেদ এবং মামুনুর রশিদ রিপন। তাদের মধ্যে খালেদ ও রিপন তখন পলাতক ছিলেন।

পরে বড় মিজানকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। বাকি সাত আসামির বিরুদ্ধে ২০২০ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন।

পরবর্তীকালে ডেথ রেফারেন্স, আসামিদের আপিল এবং জেল আপিলের শুনানি শেষে ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর হাইকোর্ট রায় ঘোষণা করেন। বিচারপতি সহিদুল করিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ সাত আসামির সবার মৃত্যুদণ্ড পরিবর্তন করে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন।

সেই সাত দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন— রাকিবুল হাসান রিগ্যান, মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রাজীব গান্ধী, আসলাম হোসেন, হাদিসুর রহমান, আবদুস সবুর খান ওরফে সোহেল মাহফুজ, মামুনুর রশিদ রিপন এবং শরিফুল ইসলাম খালেদ।

হামলার দুই বছর পর হলি আর্টিজানের ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়। পরে সেখানে নির্মাণ করা হয় একটি স্মৃতিস্তম্ভ। প্রতিবছরের মতো এবারও সেখানে সরকারিভাবে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে। পাশাপাশি ইতালি, জাপানসহ বিভিন্ন দেশের দূতাবাস ও হাইকমিশনের পক্ষ থেকেও ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

এ ছাড়া হামলায় নিহত ডিবির তৎকালীন সহকারী কমিশনার মো. রবিউল ইসলাম এবং বনানী থানার তৎকালীন ওসি মো. সালাহউদ্দিন আহম্মেদের স্মরণে পুলিশ কর্মকর্তারাও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

এক দশক পেরিয়ে গেলেও দেশের ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস এই হামলার নেপথ্যের প্রকৃত কারণ আজও অজানাই রয়ে গেছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
UPCOMING
England VS Congo DR
Scheduled
01 Jul, 10:00 PM
VS
World Cup