মঙ্গলবার
৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অতীতের রাজনৈতিক বিতর্ক নয়, ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৯ জুন ২০২৬, ১১:২৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমরা অতীতের রাজনৈতিক বিতর্কে না গিয়ে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়েই আলোচনা করতে চাই। দেশের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। অতীতে কী ভালো বা মন্দ হয়েছে, সেই বিতর্কে তিনি যেতে চান না। কারণ দেশের স্বার্থে সবাইকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। অতীতে দেখা গেছে, ভবিষ্যতের চেয়ে অতীত নিয়েই বেশি আলোচনা হয়েছে। কিন্তু এখন দেশের মানুষ ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা শুনতে চায়।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হলে প্রথমে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং পরে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বক্তব্য দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি দলের সদস্য হিসেবে এবারের বাজেটকে ‘জীবনবান্ধব বাজেট’ নাম দিতে চান। এই বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে বাস্তবতা, মানুষের প্রয়োজন এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্র পরিচালনায় বাজেটকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দলিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার সবসময় একটি বাস্তবমুখী ও কার্যকর বাজেট দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে কোনো বাজেটই সব সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান দিতে পারে না। বাস্তবতা কঠিন হলেও সরকারের সর্বোচ্চ জ্ঞান, বিবেক ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এমন একটি বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে, যাতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ অন্তত কিছুটা স্বস্তি পায়।

তিনি দাবি করেন, এবারের বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬১টি পণ্যের ওপর আগে যে কর ছিল, তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর ফলে বাজেট ঘোষণার আগে ও পরে নিত্যপণ্যের দামে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি দেখা যায়নি, যা অতীতে প্রায় নিয়মিত ঘটনা ছিল। সরকারের এ উদ্যোগ সাধারণ মানুষের জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তি এনে দিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের অর্থনীতি অত্যন্ত দুর্বল অবস্থায় ছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি, লুটপাট, অব্যবস্থাপনা ও ভুল নীতির কারণে অর্থনীতি কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল। হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে, উৎপাদন ও বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়েছিল এবং মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছিল।

তিনি আরও বলেন, পুঁজিবাজার এমন সংকটে পড়েছিল যে বহু মানুষ সর্বস্ব হারিয়ে আত্মহত্যা পর্যন্ত করেছিলেন। অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যাপকভাবে কমে যায় এবং টাকার বিনিময় হার প্রায় ৪০ শতাংশ অবমূল্যায়িত হয়েছিল। পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় ও আয়বিহীন বিভিন্ন ‘ভ্যানিটি প্রকল্পে’ বিপুল দেশি-বিদেশি ঋণ নেওয়া হয়েছিল, যার বোঝা এখনও বহন করতে হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার এসব সংকট অস্বীকার করতে চায় না এবং সংকটকে অজুহাতও বানাতে চায় না। রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কার্যকর নীতি এবং জনগণকে সঙ্গে নিয়েই সরকার এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে চায়।

তিনি আরও বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে কাজ করতে হয়েছে। একই সঙ্গে ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সরকারের বিশ্বাস, ধারাবাহিক উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি সংকট কাটিয়ে আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে সক্ষম হবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
LIVE
Brazil VS Japan
65'
1 - 1
56' Casemiro
29' Kaishu Sano
World Cup