

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দেশের প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাতা মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই।
দীর্ঘদিনের শারীরিক জটিলতার পর সোমবার (২৯ জুন) সকালে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, নিউমোনিয়াজনিত জটিলতায় গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তিনি। এর আগে তার ফুসফুসে গুরুতর ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ ধরা পড়ে।
মুস্তাফা মনোয়ারের স্ত্রী মেরী মনোয়ার জানিয়েছিলেন, শ্বাসকষ্ট, অক্সিজেনের মাত্রা ও রক্তচাপ কমে যাওয়ায় গত ১৪ জুন তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শে সেদিনই তাকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয় এবং সেখানেই তার চিকিৎসা চলছিল।
১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর মাগুরা জেলার নাকোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মুস্তাফা মনোয়ার।
তার পৈতৃক নিবাস ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে। তিনি কবি গোলাম মোস্তফা ও জমিলা খাতুনের সন্তান।
নারায়ণগঞ্জ গভর্নমেন্ট স্কুল থেকে মাধ্যমিক পাস করার পর কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হলেও পরে নিজের আগ্রহের টানে কলকাতা সরকারি চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৫৯ সালে সেখান থেকে চারুকলায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন।
দেশে ফিরে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের আহ্বানে আর্ট কলেজে শিক্ষকতা শুরু করলেও পরে সেই দায়িত্ব ছেড়ে তৎকালীন বাংলাদেশ টেলিভিশনে যোগ দেন। সেখানে অনুষ্ঠান নির্মাতা ও সাংস্কৃতিক সংগঠক হিসেবে তিনি দীর্ঘ সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। শিশুতোষ অনুষ্ঠান 'মনির মুক্তা' ও 'নতুন কুঁড়ি'সহ বিভিন্ন সৃষ্টিশীল উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি দর্শকদের কাছে বিশেষভাবে পরিচিতি লাভ করেন।
বাংলাদেশের শিল্প ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন। দীর্ঘ কর্মজীবনে দেশ-বিদেশে আরও বহু সম্মাননা ও পুরস্কার অর্জন করেছেন এই গুণী শিল্পী।
