

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ধর্মকে ব্যবসার হাতিয়ার না বানিয়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এ আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, মন্দির নির্মাণে তার কোনো আপত্তি নেই। ‘ওরা মন্দিরে পূজা করবে, আমি আমার মসজিদে নামাজ পড়ব। অসুবিধা কী? একসঙ্গে কি আমরা থাকব না?’
নিজের শৈশবে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও বিভিন্ন গ্রামীণ সাংস্কৃতিক চর্চার স্মৃতিচারণ করেন ফজলুর রহমান। কারও নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, তাদের নাটক ও ফুটবল খেলা পছন্দ নয়।
আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের খেলা দেখা যাবে না— এমন কথাও বলা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা সমাজকে মধ্যযুগে ফিরিয়ে নিতে চায়, বর্বরতার দিকে নিয়ে যেতে চায়। সেই বর্বরতার দিকে কি আমরা যাব?— এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, না গেলে তাদের সঙ্গে পার্থক্য রাখতে হবে।
ফজলুর রহমান বলেন, মেসি ও রোনালদোকে যদি ঢাকায় এনে একটি প্রীতি ম্যাচ আয়োজন করা হয়, তাহলে একজন মানুষ একদিন খেলা দেখতে যাবে, দ্বিতীয় দিন আর যাবে না।
বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘পার্লামেন্টে যে গেমটা হচ্ছে, এই গেমটা চললে কিছুদিন পরে মাঠ খালি পড়ে থাকবে।’
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে রামমন্দির ও মূর্তি নির্মাণের প্রতিবাদে প্রতিদিন স্লোগান হচ্ছে উল্লেখ করে ফজলুর রহমান বলেন, ‘তাদের পোশাকটা দেখলেই বুঝি আমি, তারা কারা। সেই পোশাকি লোকজনের সংখ্যা এখন বেড়ে গেছে। এমন বাড়া বাড়ছে যে তারা পৃথিবীর কোনো সভ্যতা, সংস্কৃতি-কোনো কিছু শুনতে চায় না। কোনো কথা শুনতে চায় না। ধর্মকে নিয়ে শুধু ব্যবসা করতে চায়। তারা হলো ধর্ম ব্যবসায়ী।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, সরকার যদি মনে করে সেখানে মন্দির বা রামমূর্তি নির্মাণ ঠিক হবে না, তাহলে তা বন্ধ করে দিতে পারে।
তবে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে ফজলুর রহমান বলেন, ‘আমি মনে করি, ওই ১০০ না, ৩০০ মন্দির-মূর্তি বানাক, আমি মুসলমান, আমার কী আইলো-গেল (আসলো-গেল)? আমি তো ওই দিকে তাকাই না। আমি প্রয়োজনে ২৫ তলা মসজিদ করব। অসুবিধা কী? ওরা মন্দিরে পূজা করবে, আমি আমার মসজিদে নামাজ পড়ব। অসুবিধা কী? একসঙ্গে কি আমরা থাকব না?’
তিনি আরও বলেন, ‘পীর সাহেবদের দোষটা কী? কুষ্টিয়াতে কুপাইয়া মারলেন কেন? ফরিদপুরে আগুন জ্বালায়া মারলেন কেন? শাহজালালের মাজার ভাঙার জন্য আমার এক ভাই চার কোটি টাকা ঘোষণা করে কেন? এখানে মাজার থাকবে। আপনি যদি মাজারে ইচ্ছা হয় যাবেন, না হয় যাবেন না।’
