

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, বিগত দিনে কবি নজরুলকে সুপরিকল্পিতভাবে অন্ধকারে নিমজ্জিত করার একটা গভীর অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল।
সোমবার (১৫ জুন) সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি।
যথাযোগ্য মর্যাদায় দেশব্যাপী ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপনের লক্ষ্যে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় কমিটির উচ্চপর্যায়ের এ সভায় সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। চলতি বছরের গত মে মাসের ২৫ তারেখ শুরু হয়ে আগামী বছরের ২৫ মে পর্যন্ত এক বছর মেয়াদে ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন করবে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
সভার শুরুতে দেশের ৬৪টি জেলায় প্রতিটি জেলা প্রশাসনের জন্য আড়াই লাখ টাকা এবং ৭৪টি প্রত্যন্ত উপজেলায় প্রতিটির জন্য দেড় লাখ টাকা করে মোট ২ কোটি ৭১ লক্ষ টাকা ইতিমধ্যে বরাদ্দ প্রদানের বিষয়টি অবহিত করা হয়। সেই সঙ্গে আগামী ১৮ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত দেশব্যাপী ৩ দিনব্যাপী বিশেষ উদ্বোধনী কর্মসূচি পালনের প্রস্তুতি পর্যালোচনা করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, বিগত দিনে কবি নজরুলকে সুপরিকল্পিতভাবে অন্ধকারে নিমজ্জিত করার একটা গভীর অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল। এমন একটি অন্ধকার যুগ আমরা পার করেছি, যে সময় স্বৈরাচারী ও সংকীর্ণ অপশক্তির মাধ্যমে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে পাকিস্তানের দোসর ও মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী হিসেবে দেখানোর বিকৃত প্রয়াস চালানো হয়েছে।
‘ঠিক একইভাবে, কাজী নজরুল ইসলামকেও এ দেশের মানুষের মন ও স্মৃতি থেকে চিরতরে ভুলিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করা হয়েছিল’, বলেন তিনি।
সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, শহীদ জিয়া এবং জাতীয় কবি— দুজনেই ছিলেন অন্যায্য অপশাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার কণ্ঠস্বর। একজন বিদ্রোহ করেছিলেন ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে, আরেকজন অস্ত্র হাতে গর্জে উঠেছিলেন পাকিস্তানি হানাদারের বিরুদ্ধে। আজ সেই দীর্ঘ অন্ধকার যুগের অবসান ঘটেছে। ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশে এক নতুন জাগরণ, একটি সাংস্কৃতিক রেনেসাঁ শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, নতুন এই যুগের সূচনাতেই নজরুলই আমাদের সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর এবং সাহসের অনন্য অনুপ্রেরণা।
এসময় প্রস্তুতিমূলক সভায় বছরব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’ পালনের রূপরেখা সাজাতে জাতীয় কমিটির সদস্যবৃন্দ এবং বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানদের পক্ষ থেকে একগুচ্ছ যুগান্তকারী ও বহুমাত্রিক কর্মসূচি প্রস্তাব করা হয়।
সভায় বিশ্ববাসীর কাছে 'নজরুল বর্ষ'-কে তুলে ধরতে বিশ্বখ্যাত ওটিটি প্ল্যাটফর্ম অ্যামাজন (Amazon) ও নেটফ্লিক্স (Netflix)-এ প্রচারের উপযোগী উচ্চমানের প্রামাণ্যচিত্র ও চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রস্তাব উত্থাপিত হয়। এর পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশকে "Land of Nazrul" হিসেবে ব্র্যান্ডিং করার ধারণা তুলে ধরা হয়, যা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যুক্তরাজ্যের "Land of Shakespeare" পরিচিতির মতো ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
