শনিবার
১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শনিবার
১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাজেটের সাফল্য নির্ভর করবে বাস্তবায়নের ওপর: সিপিডি

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৬, ০১:০৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

বাজেটের আকার নয়, এর কার্যকর বাস্তবায়নই হবে সাফল্যের মূল পরীক্ষা বলে এমন মন্তব্য করেছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডি। সংস্থাটি বলছে, নতুন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের একটি ইতিবাচক রূপরেখা দিলেও প্রত্যাশিত ফল পেতে হলে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও কাঠামোগত সংস্কারকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাজেট-পরবর্তী মূল্যায়ন তুলে ধরেন সিপিডির বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান ও নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন।

সংস্থাটির বিশ্লেষণে বলা হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মানবসম্পদ উন্নয়ন, বেসরকারি খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধি এবং সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করা। অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উদ্যোক্তা বিকাশ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও জনকল্যাণমূলক খাতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সিপিডির মতে, বাজেটে প্রতিফলিত অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বেশ সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিশেষ করে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং সামাজিক খাতের উন্নয়নে যে অঙ্গীকার ছিল, তার প্রতিফলন প্রস্তাবিত বাজেটে দেখা যায়।

তবে সংস্থাটি মনে করে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বেসরকারি বিনিয়োগের ধীরগতি এবং সীমিত কর্মসংস্থানের সুযোগ এখনো অর্থনীতির প্রধান চ্যালেঞ্জ। এই বাস্তবতায় সামাজিক সুরক্ষা ও মানব উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও তা বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, সেটিই বড় প্রশ্ন।

সিপিডি সতর্ক করে বলেছে, বড় বাজেট মানেই সফল বাজেট নয়। নির্ধারিত কর্মসূচি বাস্তবায়নে দুর্বলতা থাকলে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে। তাই সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর দক্ষতা বাড়ানো, নীতির কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করা এবং জবাবদিহিতা জোরদার করা প্রয়োজন।

সংস্থাটির ভাষ্য, উন্নয়ন ব্যয়ের পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি সেই অর্থ কতটা দক্ষতার সঙ্গে ব্যয় হচ্ছে এবং তার সুফল সাধারণ মানুষ পাচ্ছে কি না, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বাজেট বাস্তবায়নের সাফল্য শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে জনগণের জীবনে এর বাস্তব প্রভাবের ওপর।

সিপিডির মূল্যায়নে আরও বলা হয়, নতুন সরকারের জন্য এই বাজেট একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সংস্কার এগিয়ে নেওয়া এবং পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় কার্যকর নেতৃত্ব প্রদর্শনের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। তবে সেই সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ দিতে হলে নীতি ও বাস্তবায়নের মধ্যে ব্যবধান কমিয়ে আনতে হবে।

সংস্থাটির মতে, আগামী দিনে কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ এবং সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে দৃশ্যমান অগ্রগতিই নির্ধারণ করবে প্রস্তাবিত বাজেট কতটা সফল হয়েছে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন