রবিবার
০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তরের নতুন ভিশন

এনপিবিনিউজ ডেস্ক
প্রকাশ : ০৭ জুন ২০২৬, ০৭:১০ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ উচ্চশিক্ষা নেটওয়ার্ক জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে শুধু ডিগ্রি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে সীমাবদ্ধ না রেখে দক্ষতা, প্রশিক্ষণ ও কর্মমুখী শিক্ষার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

রোববার (৭ জুন) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলামে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা বিষয়ক শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মাহদী আমিন বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় কাঠামো। এটি শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, বরং দেশের প্রায় সব অঞ্চলে বিস্তৃত জ্ঞানচর্চার একটি বিশাল নেটওয়ার্ক। ভবিষ্যতে এই প্রতিষ্ঠানকে আরও আধুনিক, দক্ষতাভিত্তিক এবং কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষার কেন্দ্র হিসেবে রূপান্তর করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকারের লক্ষ্য হলো শিক্ষাকে কেবল সার্টিফিকেট অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব জীবনের দক্ষতা ও পেশাগত সক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত করা।

উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান বিশ্বের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষম ও প্রযুক্তিনির্ভর করে গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। সেই লক্ষ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলামে ধাপে ধাপে পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

তিনি জানান, কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষার সম্প্রসারণ, ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা জোরদার, ইন্টার্নশিপ ও অ্যাপ্রেন্টিসশিপের সুযোগ বৃদ্ধি, এবং ভাষা শিক্ষা উন্নয়নের জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

এছাড়া শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সেন্টার এবং চাকরি সংযোগ (জব প্লেসমেন্ট) কার্যক্রম চালু করার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মাহদী আমিন তার বক্তব্যে জানান, শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশের জন্য বেশ কিছু নতুন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- “লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস” উদ্যোগ, “এক শিক্ষার্থী, এক গাছ” কর্মসূচি, পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম, বিভিন্ন সামাজিক সচেতনতা প্রকল্প ও মাঠপর্যায়ে খাল খননসহ জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ।

এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যপুস্তক নির্ভর না রেখে বাস্তব অভিজ্ঞতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধে সমৃদ্ধ করা।

তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম বড় সমস্যা হলো দীর্ঘদিনের সেশনজট। এটি নিরসনে সরকার দ্রুতগতিতে কাজ করছে। পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা, ফল প্রকাশ এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে আরও গতিশীল করা হচ্ছে। এতে করে শিক্ষার্থীরা দ্রুত সময়ে তাদের শিক্ষাজীবন শেষ করতে পারবে এবং কর্মজীবনে প্রবেশ সহজ হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যজ্ঞান নয়, মানবিক ও সামাজিক গুণাবলিও অর্জন করতে হবে। এ জন্য বিতর্ক, বিজ্ঞানমেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সাহিত্যচর্চা এবং খেলাধুলার মতো সহশিক্ষা কার্যক্রমকে উৎসাহিত করা হবে।

প্রতিটি শিক্ষার্থীকে অন্তত একটি খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে তিনি জানান।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন