

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সম্প্রতি একটি খবর ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে—বাংলাদেশের বাজারে বিক্রি হওয়া কিছু টুথপেস্টে নাকি মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। কেউ কেউ ভাবছেন, প্রতিদিনের ব্রাশ করাও কি এখন নিরাপদ? আবার অনেকে কোন টুথপেস্ট ব্যবহার করবেন, তা নিয়েও দ্বিধায় রয়েছেন।
এ বিষয়ে ঢাকা ডেন্টাল কলেজের, ডেন্টাল পাবলিক হেলথ বিভাগের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাঃ মোঃ হায়দার আলী খান বলেন; থামুন, প্যানিক করবেন না। চলুন সংখ্যা দিয়েই সত্যিটা যাচাই করি।
আসল পরিমাণটা কত?
গবেষণায় পাওয়া গেছে প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০-৩২০টি কণা। অর্থাৎ প্রতি গ্রামে মাত্র ০.২-৩.২টি কণা। আর আমরা এক ব্রাশে ব্যবহার করি মটর দানার সমান — ১ গ্রামেরও কম। দিনে দুইবার মিলিয়ে ২ গ্রামের কম!
যা ব্যবহার করি, তার সবটা কি শরীরে যায়?
না। টুথপেষ্ট খাদ্য নয়, ব্রাশ করে আমরা কুলি করে ফেলে দিই। বেশিরভাগ টুথপেস্টই মুখ থেকে বেরিয়ে যায়, পাকস্থলীতে পৌঁছায় না।
তাহলে আসল ভিলেন কে?
বোতলজাত পানির দিকে তাকান....
টুথপেস্ট একা আসামি নয়
লবণ, চা-ব্যাগ, প্যাকেটজাত খাবার, বাতাস, এমনকি ওভেনে গরম করা খাবার — সবখানেই মাইক্রোপ্লাস্টিক। শুধু টুথপেস্টকে দোষ দিয়ে আতঙ্কিত হওয়াটা অযৌক্তিক, যেখানে এটি সামগ্রিক এক্সপোজারের এক ক্ষুদ্র অংশমাত্র।
তবে কি একেবারে ছেড়ে দেব বিষয়টা? না। নীতিগতভাবে মুখে ব্যবহৃত কোনো পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকা উচিত নয় — এটা প্রতিরোধযোগ্য, প্রস্তুতকারকরা চাইলেই এড়াতে পারেন।
তাহলে করণীয় কী?
টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকা কাম্য নয়, কিন্তু এজন্য ব্রাশ বন্ধ করার কোনো মানে নেই। নিয়মিত ব্রাশ চালিয়ে যান, কুলি করে মাইক্রো প্লাস্টিক ফেলে দিলেও সেটা পানিতে যায় তাই সামগ্রিক পরিবেশগত দূষণ কমানোর ব্যাপারে সচেতন থাকুন।
বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডগুলো বছরের পর বছর BSTI মান মেনেই পণ্য তৈরি করে আসছে, আর রপ্তানিও করছে, বিদেশি মুদ্রা আসছে— যা প্রমাণ করে মান আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা রাখে। মাইক্রোপ্লাস্টিক কোনো একক দেশের সমস্যা নয়, এটা বৈশ্বিক শিল্পোৎপাদনের চ্যালেঞ্জ। মজার বিষয়, এই গবেষণায় প্রতিবেশী দেশের যেসব টুথপেস্ট বাংলাদেশে ব্যাপক ব্যবহৃত হয়, সেগুলোর কোনো তথ্যই নেই (যেমন Dabur, Anchor, Himalaya) — যা প্রশ্ন তোলে গবেষণার উদ্দেশ্য নিয়েও।
বাংলাদেশে বর্তমানে কিছু এনজিও ও সুশীল সমাজ সংগঠনগুলোকে নিয়ে "বিদেশি স্বার্থে কাজ করা" জাতীয় সন্দেহ-সংশয় একটি বাস্তব সামাজিক-রাজনৈতিক প্রবণতা—যেটি একেবারে অমুলক নয়। আমাদের দেশীয় টুথপেস্ট শিল্প আমাদের অর্জনের অংশ। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের খাত, এটি নিয়ে চক্রান্ত কাম্য নয়, একটি প্রাথমিক গবেষণায় এই আস্থা নষ্ট না করে, বরং আরও ভালো মান নিশ্চিত করার দিকে এগিয়ে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
