মঙ্গলবার
১২ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
১২ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘ঐতিহাসিক চলচ্চিত্র নির্মাণে সঠিক ইতিহাস উপস্থাপন এবং অপতথ্য প্রদান রোধের ওপর গুরুত্বারোপ’

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১২ মে ২০২৬, ০৯:০৭ পিএম
বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (বিসিটিআই)
expand
বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (বিসিটিআই)

বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (বিসিটিআই)-এর যৌথ আয়োজনে “ঐতিহাসিক চলচ্চিত্র এবং ঐতিহাসিক বিষয়বস্তু অবলম্বনে চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে সঠিক ইতিহাস উপস্থাপন এবং অপতথ্য প্রদান রোধ” শীর্ষক এক কর্মশালা আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের সেমিনার হলে অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালার সূচনা বক্তব্য প্রদান করেন বিসিটিআই-এর উপপরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) জনাব মো. মোকছেদ হোসেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম এন্ড টেলিভিশন বিভাগের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ড. শাহ মো. নিস্তার জাহান কবীর।

মূল প্রবন্ধে ড. শাহ নিস্তার কবীর ইতিহাসভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইতিহাস ও ইতিহাসনির্ভর চলচ্চিত্র নির্মাণের মূল দায়িত্ব হলো সত্যকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করা এবং অপতথ্য বা বিকৃত ইতিহাস থেকে বিরত থাকা। নতুন নির্মাতাদের মধ্যে ইতিহাস সম্পর্কে সচেতনতা ও দায়বদ্ধতা তৈরি করাই এ ধরনের কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য।

তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিগত মতাদর্শ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য কিংবা ব্যবসায়িক স্বার্থকে প্রাধান্য দিলে ইতিহাস বিকৃত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্রে এ ধরনের প্রবণতা লক্ষ্য করা যায় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কর্মশালায় আলোচক হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক জনাব এ এস এম জাহীদ, বাংলাদেশ ফিল্ম এডিটরস গিল্ডের সভাপতি আবু মুসা দেবু, ফেডারেশন অফ ফিল্ম সোসাইটিজ অফ বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরউল্লাহ এবং পরিচালক জনাব মো. মসিহউদ্দিন শাকের।

‘সূর্যদীঘল বাড়ী’ চলচ্চিত্রের পরিচালক মসিহউদ্দিন শাকের বলেন, চলচ্চিত্র সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এক্ষেত্রে সত্য অত্যন্ত অপরিহার্য, কারণ সত্যই সুন্দর। সংস্কৃতির অংশ হিসেবে আমরা অবশ্যই সত্য ইতিহাসনির্ভর চলচ্চিত্র দেখতে চাই। শুধু পুঁথিগত জ্ঞান নয়, জীবন থেকেও অনেক কিছু শিখতে হবে। বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মহাপরিচালক জাভেদ ইকবাল তাঁর সভাপতির বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান। ভবিষ্যতে বিসিটিআই-এর শিক্ষার্থীদের হাত ধরে সত্য ইতিহাসনির্ভর চলচ্চিত্র নির্মিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক এ এস এম জাহীদ বলেন, ঐতিহাসিক চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে সত্যকে। অপতথ্য ও অসত্য অনেক সময় সমাজে বড় ধরনের বিভ্রান্তি ও বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিল্ম ও ফটোগ্রাফি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ইমরান হোসেন বলেন, ইতিহাসনির্ভর চলচ্চিত্র নির্মাণে গভীর গবেষণা অপরিহার্য। সত্যকে পরিহার করে নির্মিত চলচ্চিত্র দর্শক গ্রহণ করে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ প্রফেশনালসের শিক্ষক আল আমিন রাকিব তনয় বলেন, ইতিহাসভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণ একটি চ্যালেঞ্জিং কাজ এবং এর জন্য যথাযথ গবেষণা ও ডকুমেন্টেশন অত্যন্ত জরুরি।

বিসিটিআই-এর প্রধান নির্বাহী আবুল কালাম মোহাম্মদ শামসুদ্দিন বলেন, বন্ধুপ্রতিম প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ ভবিষ্যতেও বিসিটিআই-এর শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করবে বলে তিনি আশাবাদী।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে গাজী মাহবুব, মনিরুল ইসলাম ও ফজলে হকসহ বিশিষ্ট চলচ্চিত্র ব্যক্তিবর্গ এবং বিসিটিআই-এর শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন