

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


৫৫ বছরে পদার্পণ করেছে বাংলাদেশ। অগ্নিঝরা মার্চের সেই উত্তাল সময় পেরিয়ে ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে যে লাল-সবুজের পতাকা উড়েছিল, তার পথচলায় যুক্ত হয়েছে অর্জনের বহু অধ্যায়।
স্বাধিকার আন্দোলনের বীজ রোপিত হয়েছিল ১৯৭১ সালের মার্চে। ১ মার্চ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিতের ঘোষণার পর থেকেই উত্তাল হয়ে ওঠে রাজপথ। ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে স্বাধীনতার ডাক, আর ২৫ মার্চের কালরাত পেরিয়ে ২৬ মার্চের স্বাধীনতা ঘোষণা; শুরু হয় বাঙালির মুক্তির সংগ্রাম। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে অর্জিত হয় স্বাধীনতা।
স্বাধীনতার পর দীর্ঘ পথচলায় বাংলাদেশ অর্থনীতি ও সমাজের নানা খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। খাদ্য ঘাটতি কাটিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণতা, দারিদ্র্য হ্রাস, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি, রেমিট্যান্স প্রবাহ, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি এবং তৈরি পোশাক শিল্পের প্রসার। সব মিলিয়ে দেশের অর্থনীতিতে এসেছে দৃশ্যমান পরিবর্তন।
অর্থনীতিবিদদের মতে, স্বাধীনতার পর ছোট অর্থনীতি থেকে বাংলাদেশ এখন প্রায় ৪০০ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত হয়েছে। মাথাপিছু আয়ও বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৭০০ ডলারে। এই অগ্রগতির পেছনে রয়েছে সরকারের বিভিন্ন নীতিমালা, বেসরকারি খাতের উদ্যোগ এবং মানুষের সৃজনশীলতা।
তবে অর্জনের এই চিত্রের আড়ালে রয়েছে কিছু চ্যালেঞ্জও। বিশেষ করে আয় বৈষম্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে অসমতা এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, টেকসই উন্নয়নের জন্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি সামাজিক ন্যায্যতা নিশ্চিত করা জরুরি।
তাদের মতে, বৈষম্য কেবল অর্থনৈতিক নয়; এটি সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও বিস্তৃত। তাই বৈষম্য কমাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ এবং কার্যকর বাস্তবায়ন প্রয়োজন। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দল ও রাষ্ট্রের সব স্তরে ইতিবাচক ভূমিকা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।
প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির এই সন্ধিক্ষণে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে দেশের অর্থনীতি ও আর্থসামাজিক খাতে আরও ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন সম্ভব হবে।
মন্তব্য করুন