

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সড়কের উপরে দাঁড়িয়ে তেলভর্তি ডিপোর ট্রাক। ট্রাকের উপরে দাঁড়িয়ে একজন বালতি দিয়ে একের পর এক তেল নামাচ্ছেন। নিচে দাঁড়িয়ে থাকা আরেকজন তেলভর্তি সেই বালতি নিয়ে যাচ্ছেন সড়কের পাশে থাকা দোকানে। ফিরতি বালতিতে পানি সাদৃশ্য কিছু একটা তরল বস্তু আবার ঢালছেন তেলের সেই ডিপোর ট্রাকে।
দুই মিনিট ২২ সেকেন্ডের তেল বিক্রির এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। যা নিয়ে চলছে সমালোচনা আলোচনা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কের যশোর সদরের সাতমাইল এলাকায় অবস্থিত আলী হোসেনের দোকানের সামনে। প্রথমে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের সাংবাদিক আরিফ মোল্লার মোবাইলে ধরা পড়ে চুরির এই দৃশ্য। এরপর তার ফেসবুকে পোস্ট করার পর বুধবার থেকে তা ভাইরাল হয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, চুয়াডাঙ্গায় একটি তেলবাহী ডিপোর ট্রাকে বালতিতে করে তেল দিচ্ছেন এবং নিচে আরেকজন তেলের বালতি নিয়ে দোকানে প্রবেশ করছেন। কয়েক বালতি তেল তিনি দোকানে নেন। পরে ওই ব্যক্তিকে নাম জিজ্ঞেস করলে নিজেকে দোকানি বলে জানান।
তবে গাড়ির ওপরে থাকা ব্যক্তির নাম জিজ্ঞেস করলেও তিনি নাম বলেননি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দোকানির নাম আলী হোসেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কের পাশে দোকান বানিয়ে সড়কে চলাচলরত গাড়ির চোরাই তেল ক্রয়-বিক্রয় করে আসছিলেন।
জানতে চাইলে কালীগঞ্জের সাংবাদিক আরিফ মোল্লা জানান, খুলনার ডিপো থেকে জ্বালানি তেল নিয়ে চুয়াডাঙ্গায় যাওয়ার পথে চালক ও তার সহকারীরা চুরি করে বিক্রি করে দেন। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার বেলা ১টার দিকে যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কের যশোর সদর উপজেলার সাতমাইল এলাকায় অবস্থান নেন তিনি। সেখানে গাড়িটি আসার পর বালতিতে করে তেল নামিয়ে বিক্রি করছিল চালক ও সহকারী। শুধু মঙ্গলবার নয়, তারা নিয়মিত তেল চুরি করে বিক্রি করে দেন। যশোর থেকে কালীগঞ্জ পর্যন্ত তিন থেকে চারটি স্পষ্টে তেল চুরি করে বিক্রি করেন চালক ও সহকারীরা।
সাংবাদিক আরিফ মোল্লা বলেন, ভিডিওতে তাদের কাছে অনেক প্রশ্ন জিজ্ঞেস করেছি। কিন্তু তারা সদুত্তর দিতে পারেননি। ভিডিও ফেসবুকে ছাড়ার পর ভাইরাল হয়েছে। এমনকি চুয়াডাঙ্গার কোন পাম্পের গাড়ি সেটাও জানা যায়নি।
তেল নামানোর স্থানটি যশোর সদরের হৈবতপুর ইউনিয়নের সাতমাইল এলাকায়। ওই ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আহম্মদ আলী বলেন, দোকানটি মহাসড়কের পাশে এবং ফাঁকা মাঠের ভিতরে। বিভিন্ন গাড়ির চোরাই তেল ড্রাইভার-হেলপারের যোগসাজশে তারা ক্রয় করে। পরে খুচরা দামে সেই তেল বিভিন্ন গাড়িতে বিক্রি করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে দেকান মালিক আলী হোসেনের নাম্বারে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তার ফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
জানতে চাইলে যশোর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাফফাত আরা সাঈদ বলেন, তেল চুরি করে নামানোর ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। সেই ভিডিও আমি দেখেছি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সুত্র: সময়ের আলো
মন্তব্য করুন
