

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন সপ্তাহ আগেই নবম জাতীয় বেতন কমিশন তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দিয়েছে।
গত ২১ জানুয়ারি বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ২৩ সদস্যের এই কমিশন কমিশনপ্রধান জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করে।
কমিশনের প্রতিবেদনে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য মোট ২০টি বেতন গ্রেড নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে। এতে বিদ্যমান সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
বেতন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে বলে জানা গেছে। বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের বার্ষিক ব্যয় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। একই সঙ্গে প্রায় সমান হারে পেনশন, চিকিৎসা ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাও বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
তবে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন প্রায় আড়াই গুণ বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে।
কয়েকজন উপদেষ্টার মতে, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে শুধু সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন এতটা বাড়ানো বৈষম্যমূলক হতে পারে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির বাজারে সাধারণ মানুষের সীমিত আয়ের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সরকারি কোষাগারের ওপর অতিরিক্ত চাপ না বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন তারা।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়।
এদিকে এক প্রশ্নের জবাবে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন সংক্রান্ত কোনো কমিটি এখনো গঠন করা হয়নি। তিনি বলেন, কমিটি গঠন হলে বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে। তবে বেতন বৃদ্ধির অতিরিক্ত অর্থের জোগান কিভাবে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
উপদেষ্টা পরিষদের ওই বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পদ্ধতি নির্ধারণে একটি কমিটি গঠনের কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা করা হয়নি। ফলে বর্তমান সরকারের মেয়াদে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন প্রায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
মন্তব্য করুন

