

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ঝলমলে আলো, গ্ল্যামার আর পরিপূর্ণ ব্যস্ততার মধ্যে থেকেও দীপিকা পাডুকোন বারবার প্রমাণ করেছেন, সাফল্য মানে শুধু কাজ নয়, নিজের যত্নও জরুরি। সম্প্রতি তার এক মন্তব্য বলিউডে আলোচনার ঝড় তুলেছে—“প্রতিদিন আট ঘণ্টার বেশি কাজ করা উচিত নয়।”
এই সরল বক্তব্যের মধ্যেই উঠে আসে একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য: ক্লান্তি ও অবসন্ন মন নিয়ে কাজ করলে প্রকৃত সাফল্য আসে না। দীপিকার মতে, প্রকৃত সৌন্দর্য লুকিয়ে থাকে জীবনের ভারসাম্যে, যেখানে কাজ, বিশ্রাম এবং মানসিক শান্তি সমানভাবে গুরুত্ব পায়।
বলিউডের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে শুটিং সেটে কখনও ভোরে শুরু হয়ে গভীর রাত পর্যন্ত চলে কাজ। কিন্তু দীপিকা নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বুঝেছেন, শারীরিক সীমা অতিক্রম করলে কাজের মানও হ্রাস পায় এবং মনও ভেঙে পড়ে। তিনি বলেন, “কাজে দক্ষতা মানে দীর্ঘ সময় নয়, বরং মনোযোগ ও যত্ন।” এই দৃষ্টিভঙ্গি শুধু চলচ্চিত্র নয়, অফিস বা অন্য কোনো পেশার মানুষকেও প্রাসঙ্গিক।
দীপিকার জীবন সহজ ছিল না। মডেলিং থেকে সিনেমায় আসা, একের পর এক সাফল্যের সঙ্গে লড়াই করেছেন নিজের হতাশা ও মানসিক অস্থিরতার সঙ্গে। প্রকাশ্যে ডিপ্রেশনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে তিনি বলেন, “মানসিক স্বাস্থ্যের যত্নও কাজের মতোই জরুরি।” তার এই বক্তব্য তখন অনেকের চোখ খুলে দিয়েছিল। আর এবার “৮ ঘণ্টার কাজই যথেষ্ট” মন্তব্য যেন আবারও মনে করিয়ে দেয়, মানুষের সীমা অতিক্রম করা মানে নিজের প্রতি অন্যায় করা।
আজ দীপিকা শুধু একজন অভিনেত্রী নন; তিনি মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতার এক কণ্ঠস্বর। তার প্রতিষ্ঠিত ফাউন্ডেশন ‘লাইভ লাভ লাফ’ বছরের পর বছর ধরে মানুষকে শেখাচ্ছে, সুস্থতা মানে শুধু শারীরিক নয়, মানসিক সুস্থতাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তার এই নতুন মন্তব্য সেই চিন্তাভাবনার সম্প্রসারণ—কাজ, বিশ্রাম ও নিজের সময় মিলিয়ে তৈরি হয় প্রকৃত সুস্থ জীবন।
দীপিকার পরামর্শ অনেকের কাছে বিলাসী মনে হতে পারে, কারণ সবাই তো প্রতিদিন আট ঘণ্টার মধ্যে কাজ শেষ করতে পারে না। কিন্তু এটি সেই সীমার কথা মনে করিয়ে দেয়, যেখানে মানুষ কেবল যান্ত্রিক শ্রমিক হয়ে যায় না। দীপিকা আমাদের শেখাচ্ছেন, পরিশ্রম হোক মাপজোখে, আর জীবনের আনন্দ থাকুক প্রতিদিনের ছোট্ট বিরতিগুলোতে।
বলিউডের গ্ল্যামারের আড়ালে এই ক্ষুদ্র উচ্চারণের প্রতিধ্বনি পৌঁছেছে প্রতিটি কর্মজীবী নারীর হৃদয়ে। কারণ ক্লান্তি ও চাপ শুধু তার নয়—প্রতিটি মানুষের বাস্তবতা। দীপিকা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, সাফল্য তখনই অর্থবহ, যখন তার সঙ্গে থাকে মানসিক শান্তি ও নিজের প্রতি যত্ন।
মন্তব্য করুন
