

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


লেবু আমাদের প্রতিদিনের খাবারের পরিচিত একটি উপাদান। রান্না, সালাদ কিংবা পানীয় বিভিন্নভাবেই লেবু খাওয়া হয়। এতে রয়েছে ভিটামিন সি, যা শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে স্বাভাবিক রাখতে এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করতে সহায়তা করে। তবে লেবু কীভাবে খেলে এর পুষ্টিগুণ ভালোভাবে পাওয়া যায়, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
লেবুর খোসায়ও বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে। তাই ভালোভাবে ধুয়ে খোসাসহ লেবুর সামান্য অংশ খাবারে যোগ করা যেতে পারে। ভাত, তরকারি, সালাদ বা মুড়ি মাখার সঙ্গে অল্প পরিমাণ লেবুর খোসা কুচি করে খাওয়া যায়।
তবে খোসা খেলে কারও পেটে অস্বস্তি বা অন্য কোনো সমস্যা হলে তা এড়িয়ে চলাই ভালো।
পালংশাক, লালশাক, কচুশাক, ডাল, ছোলা, সয়া ও অন্যান্য উদ্ভিজ্জ খাবারে আয়রন থাকে। এসব খাবারের আয়রন শরীরে শোষিত হতে ভিটামিন সি সহায়ক হতে পারে।
তাই আয়রনসমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে লেবু খেলে আয়রন শোষণে উপকার পাওয়া যেতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের খাদ্যতালিকায় উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে আয়রন বেশি আসে, তাদের জন্য এ অভ্যাস উপকারী।
লেবুর রস পানিতে মিশিয়ে খাওয়া যায়। তবে এতে অতিরিক্ত চিনি না দেওয়াই ভালো। চাইলে পানিতে লেবুর কয়েক টুকরা ও সামান্য খোসা দিয়ে কিছুক্ষণ রেখে পান করতে পারেন।
লেবুর পানীয় খুব ঘন করে পান না করাই ভালো। বেশি অ্যাসিডিক পানীয় নিয়মিত খেলে কিছু মানুষের অম্বল বা পেটের অস্বস্তি বাড়তে পারে।
ভিটামিন সি তাপের প্রতি সংবেদনশীল। তাই লেবু দীর্ঘ সময় রান্না করলে এর ভিটামিন সি-এর পরিমাণ কমে যেতে পারে। খুব গরম খাবার বা পানীয়তে লেবু মেশানোর বদলে খাবার কিছুটা ঠান্ডা হওয়ার পর লেবু যোগ করা যেতে পারে।
লেবুর শরবত বা পানীয়ের টকভাব কমাতে অনেকে বেশি চিনি ব্যবহার করেন। এতে পানীয়টির স্বাস্থ্যকর দিক অনেকটাই কমে যেতে পারে। তাই লেবু-পানিতে অতিরিক্ত চিনি না দেওয়াই ভালো।
স্বাদ বাড়াতে সামান্য পুদিনাপাতা, গোলমরিচ বা লেবুর খোসার কুচি ব্যবহার করা যেতে পারে।
লেবু ভিটামিন সি-এর ভালো উৎস হলেও এটি কোনো রোগের চিকিৎসা বা প্রতিষেধক নয়। সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে পরিমিত পরিমাণে লেবু খাওয়াই সবচেয়ে ভালো। যাঁদের অ্যাসিডিটি, দাঁতের এনামেল ক্ষয় বা লেবুজাতীয় খাবারে অস্বস্তি হয়, তাদের পরিমাণের বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত।


