

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত ও বিতর্কিত স্বাস্থ্য ট্রেন্ডগুলোর মধ্যে অন্যতম হয়ে উঠেছে ‘কফি এনিমা’। সাধারণত তীব্র কোষ্ঠকাঠিন্য উপশম বা নির্দিষ্ট কিছু পরীক্ষার আগে পায়ুপথ দিয়ে তরল প্রবেশ করিয়ে অন্ত্র পরিষ্কার করার চিকিৎসা পদ্ধতিকে এনিমা বলা হয়।
তবে সম্প্রতি প্রচলিত তরলের পরিবর্তে ফুটিয়ে ঠান্ডা করা ব্ল্যাক কফি ব্যবহারের প্রবণতা দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি চিকিৎসাঙ্গনেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক।
বাংলাদেশে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে ডক্টর জাহাঙ্গীর কবিরসহ কয়েকজন বিকল্প স্বাস্থ্য পরামর্শক ও ওয়েলনেস ইনফ্লুয়েন্সারের বিভিন্ন ভিডিও বক্তব্যের পর।
তাঁরা দাবি করেন, কফি এনিমা ‘ফাংশনাল মেডিসিন’-এর একটি কার্যকর অংশ। তাঁদের এই আলোচনার পর ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটকে কফি এনিমা সম্পর্কিত নানাবিধ ভিডিও ছড়াতে শুরু করে। ইন্টারনেটে প্রচার করা হচ্ছে যে, পায়ুপথ দিয়ে কফি প্রবেশ করালে তা সরাসরি লিভার ও বৃহদান্ত্রে পৌঁছে জমে থাকা বর্জ্য পরিষ্কার করে এবং শরীরকে অলৌকিক উপায়ে ‘ডিটক্স’ বা বিষমুক্ত করে। একই সঙ্গে আইবিএস (IBS), দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূরীকরণ এবং দ্রুত ওজন কমানোর সহজ উপায় হিসেবেও এটিকে উপস্থাপন করা হচ্ছে। ফলে কৌতূহলবশত বহু মানুষ অনলাইনে কফি এনিমা কিট কিনে ঘরে বসেই এটি প্রয়োগের চেষ্টা শুরু করেছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ার এই ট্রেন্ডের বিপরীতে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পরিপাকতন্ত্র বিশেষজ্ঞ ও প্রথাগত চিকিৎসকেরা। দেশের শীর্ষস্থানীয় লিভার ও গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিশেষজ্ঞদের মতে, কফি এনিমা দিয়ে লিভার বা শরীর ডিটক্স করার কোনো বৈজ্ঞানিক বা ক্লিনিক্যাল সমর্থন আন্তর্জাতিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে নেই। মানবদেহের লিভার ও কিডনি প্রাকৃতিকভাবেই ২৪ ঘণ্টা শরীরকে বিষমুক্ত রাখার কাজ সম্পন্ন করে। ফলে কৃত্রিমভাবে মলদ্বারে কফি প্রবেশ করিয়ে ডিটক্সিফিকেশনের তথ্যটিকে অবৈজ্ঞানিক ও বিভ্রান্তিকর হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
মারাত্মক যেসব স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে কোনো চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান ছাড়া ঘরে বসে এনিমা গ্রহণ করলে ভয়াবহ শারীরিক বিপর্যয় ঘটতে পারে:
অন্ত্রে ছিদ্র (Bowel Perforation): অনভিজ্ঞ হাতে এনিমা টিউব প্রবেশ করালে কোলনের দেয়াল ফেটে জীবনঘাতী অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ হতে পারে।
ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্যহীনতা: অতিরিক্ত এনিমা ব্যবহারের ফলে শরীর থেকে সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের মতো জরুরি খনিজ পদার্থ বের হয়ে গিয়ে হঠাৎ হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
ইনফেকশন ও পোড়া ক্ষত: কফির তাপমাত্রা সামান্য বেশি থাকলে বা উপাদান অস্বাস্থ্যকর হলে অভ্যন্তরীণ স্পর্শকাতর টিস্যু পুড়ে যাওয়া বা মারাত্মক ইনফেকশন হতে পারে।
উপকারী ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস: বৃহদান্ত্রের প্রাকৃতিক মাইক্রোবায়োম বা উপকারী জীবাণু ধ্বংস হয়ে হজমপ্রক্রিয়া স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কোনো ভাইরাল ভিডিও বা চমকপ্রদ দাবি দেখে বৈজ্ঞানিক ভিত্তিহীন চিকিৎসাপদ্ধতি নিজের ওপর প্রয়োগ করা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। সুস্থ থাকার জন্য কোনো শর্টকাট উপায়ের ওপর নির্ভর না করে নিবন্ধিত অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই একমাত্র নিরাপদ পথ।



