বুধবার
২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিড়ালের আঁচড় মানেই কি জলাতঙ্ক?

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০২:৪৩ পিএম আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২৬, ০২:৪৯ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

বিড়ালের কামড় বা আঁচড়ের পর অনেকেই চিন্তায় পড়ে যান- জলাতঙ্কের টিকা নিতে হবে কি না। বিশেষ করে আঁচড়ে রক্ত না বের হলেও ত্বকে দাগ থাকলে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা প্রয়োজন।

জলাতঙ্ক বা র‌্যাবিস অত্যন্ত গুরুতর রোগ। তাই বিড়াল, কুকুর বা অন্য কোনো স্তন্যপায়ী প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের পর ক্ষত দ্রুত পরিষ্কার করা এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

বিড়ালের আঁচড় দিলে প্রথমে কী করবেন-

বিড়াল আঁচড় বা কামড় দিলে যত দ্রুত সম্ভব ক্ষতস্থান সাবান ও প্রবাহমান পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। এরপর পরিষ্কার কাপড় দিয়ে স্থানটি শুকিয়ে নিন।

ক্ষত গভীর হলে, রক্তপাত হলে বা ত্বক কেটে গেলে দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে যোগাযোগ করুন।

রক্ত না বের হলে কি টিকা লাগবে?

শুধু রক্তপাত হয়েছে কি না, তা দেখে জলাতঙ্কের ঝুঁকি নির্ধারণ করা ঠিক নয়। ত্বক অক্ষত আছে কি না এবং প্রাণীর লালা ক্ষত বা শ্লৈষ্মিক ঝিল্লির সংস্পর্শে এসেছে কি না-এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ।

যদি আঁচড়ে ত্বক একেবারেই না কাটে, শুধু ওপরের দিকে দাগ হয়, তাহলে সাধারণত ঝুঁকি কম হতে পারে। কিন্তু ত্বক সামান্য হলেও উঠে গেলে বা আঁচড়ে ক্ষত তৈরি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

কোন ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন-

নিচের যেকোনো পরিস্থিতিতে দেরি না করে চিকিৎসা নিন-

  • আঁচড় বা কামড়ে ত্বক কেটে গেলে
  • রক্তপাত হলে
  • ক্ষত গভীর হলে
  • বিড়ালটি অচেনা বা রাস্তায় ঘোরাফেরা করা প্রাণী হলে
  • প্রাণীটি অসুস্থ বা অস্বাভাবিক আচরণ করলে
  • ক্ষতস্থানে বিড়ালের লালা লাগার আশঙ্কা থাকলে
  • মুখ, মাথা, ঘাড় বা হাতের মতো সংবেদনশীল স্থানে কামড় বা আঁচড় হলে

প্রয়োজনে চিকিৎসক জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা এবং অন্যান্য চিকিৎসার পরামর্শ দিতে পারেন।

বিড়ালের জলাতঙ্কের লক্ষণ কী?

জলাতঙ্কে আক্রান্ত প্রাণীর আচরণে পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। যেমন-

  • হঠাৎ অস্বাভাবিকভাবে আক্রমণাত্মক হয়ে যাওয়া
  • অস্বাভাবিক ভয় বা অস্থিরতা
  • মুখ দিয়ে অতিরিক্ত লালা পড়া
  • খাবার বা পানি গিলতে সমস্যা
  • স্বাভাবিক ডাক বা আচরণে পরিবর্তন
  • দুর্বলতা বা পক্ষাঘাতের মতো লক্ষণ

তবে শুধু লক্ষণ দেখে নিশ্চিতভাবে জলাতঙ্ক শনাক্ত করা যায় না।

বিড়ালটিকে পর্যবেক্ষণে রাখা যাবে?

পরিচিত ও সুস্থ বিড়াল হলে চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রাণীটিকে পর্যবেক্ষণে রাখা যেতে পারে। পর্যবেক্ষণকালে প্রাণীটি অসুস্থ হয়ে পড়লে, মারা গেলে বা অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।

টিটেনাস টিকা-

আঁচড় বা ক্ষত হলে টিটেনাস প্রতিরোধী টিকার প্রয়োজন আছে কি না, তা আপনার আগের টিকাদানের ইতিহাস ও ক্ষতের ধরন দেখে চিকিৎসক নির্ধারণ করতে পারেন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা-

বিড়ালের আঁচড়ের পর নিজে থেকে ধরে নেবেন না যে টিকা লাগবে না। ক্ষত কতটা গভীর, ত্বক কেটেছে কি না, প্রাণীটি পরিচিত কি না এবং জলাতঙ্কের সম্ভাবনা—এসব বিবেচনা করে স্বাস্থ্যকর্মী বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

জলাতঙ্কের ঝুঁকি থাকলে উপসর্গ দেখা দেওয়ার অপেক্ষা করা উচিত নয়। দ্রুত সঠিক চিকিৎসা নেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর সুরক্ষা।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন