শুক্রবার
১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভয় বা উত্তেজনায় গায়ে কাঁটা দেওয়ার বৈজ্ঞানিক কারণ কী ?

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫৪ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

প্রতিদিনের জীবনে হঠাৎ কোনো রোমাঞ্চকর অনুভূতি, প্রচণ্ড ঠান্ডা কিংবা তীব্র ভয়ের মুখোমুখি হলে আমাদের শরীরে একটি অত্যন্ত পরিচিত পরিবর্তন ঘটে- গা শিউরে ওঠে এবং গায়ের রোম খাড়া হয়ে যায়।

সাধারণ ভাষায় একে 'গায়ে কাঁটা দেওয়া' বলা হলেও চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরিভাষায় এই স্বয়ংক্রিয় শারীরিক প্রক্রিয়াটির নাম ‘পাইলোইরেকশন’ (Piloerection)

আপাতদৃষ্টিতে একে খুব সাধারণ একটি বিষয় মনে হলেও, এর পেছনে লুকিয়ে আছে মানবদেহের জটিল স্নায়ুতন্ত্র, হরমোন এবং কোষের এক চমৎকার বৈজ্ঞানিক সমন্বয়।

গায়ে কাঁটা দেওয়া বা ‘পাইলোইরেকশন’ কী?

সহজ কথায়, হঠাৎ প্রচণ্ড শীত লাগলে, ভয় পেলে, কোনো কারণে উত্তেজিত হলে কিংবা পছন্দের গান বা সিনেমা দেখার সময় শরীরে যে শিহরণ জাগে, তাকেই আমরা ‘গায়ে কাঁটা দেওয়া’ বলি। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এর নাম ‘পাইলোইরেকশন’।

কেন এমন হয়?

আমাদের ত্বকের নিচে অসংখ্য কোষ রয়েছে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মতে, পুরো প্রক্রিয়াটি মূলত স্নায়ু এবং স্টেম কোষের একটি যৌথ ভূমিকা।

তিনটি কোষের ভূমিকা: ত্বকের নিচে প্রধানত তিন ধরনের কোষ থাকে- এপিথেলিয়াম, মেসেনকাইম ও স্নায়ুকোষ।

সিমপ্যাথেটিক স্নায়ু: যখনই আমরা কোনো কিছু অনুভব করি, তখন এই কোষগুলো থেকে সংকেত চলে যায় ‘সিমপ্যাথেটিক স্নায়ু’তে (যা আমাদের স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রের অংশ)। এই স্নায়ুটিই ত্বকের নিচে থাকা ক্ষুদ্র পেশিগুলোর কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।

মস্তিষ্কে বার্তা: স্নায়ুর মাধ্যমে এই উত্তেজনার সংকেত সরাসরি মস্তিষ্কে পৌঁছায় এবং মস্তিষ্ক তখন শরীরকে সাড়া দেওয়ার নির্দেশ দেয়।

ত্বক কেন দানাদার বা গুটি গুটি দেখায়?

আমাদের ত্বকের প্রতিটি রোমকূপের গোড়ায় ‘অ্যারেক্টর পিলি’ নামের অত্যন্ত ক্ষুদ্র এক ধরণের পেশি থাকে। মস্তিষ্ক থেকে সংকেত পাওয়ার সাথে সাথেই এই পেশিগুলো সংকুচিত হয়ে পড়ে।

পেশি সংকুচিত হওয়ার কারণে রোমগুলো সোজা হয়ে খাড়া হয়ে যায় এবং রোমকূপের চারপাশের চামড়া একটু ফুলে ওঠে। ফলে ত্বক দেখতে ছোট ছোট দানাদার গুটির মতো মনে হয়।

কোন কোন পরিস্থিতিতে গায়ে কাঁটা দেয়?

তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে: বাইরের পরিবেশ হঠাৎ ঠান্ডা হয়ে গেলে শরীর নিজের ভেতরের তাপমাত্রা ধরে রাখার চেষ্টা করে।

রোম খাড়া হয়ে ত্বকের ওপর একটি প্রতিরক্ষামূলক স্তর তৈরি করে, যা শরীরের ভেতরের গরম ভাবকে বাইরে বের হতে দেয় না।

ভয়, রাগ ও মানসিক উত্তেজনা: হঠাৎ প্রচণ্ড ভয় পেলে বা রেগে গেলে শরীর খুব দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখায়।

মানুষ ছাড়াও পশুদের (যেমন: বিড়াল) ক্ষেত্রেও এটি দেখা যায়; তারা ভয় পেলে বা আক্রমণাত্মক হলে গায়ের লোম ফুলিয়ে নিজেদের বড় দেখানোর চেষ্টা করে।

আবেগ ও হরমোনের প্রভাব: শুধু ভয় বা ঠান্ডা নয়, প্রিয় কোনো গান শোনার সময় বা আবেগঘন মুহূর্তেও গায়ে কাঁটা দেয়।

এর কারণ হলো, যেকোনো তীব্র অনুভূতিতে শরীরে ‘অ্যাড্রিনালিন’ হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়। এই হরমোন ত্বকের নিচের পেশিগুলোকে সংকুচিত করে রোম খাড়া করে দেয়।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
UPCOMING
France VS England
Scheduled
19 Jul, 03:00 AM
VS
World Cup