

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


অনেকে মনে করেন রক্তে সুগার বা ডায়বেটিস বাড়লেই ভাত খাওয়া একেবারে বন্ধ করে দিতে হবে। কিন্তু পুষ্টিবিদদের মতে, বিষয়টা মোটেও তেমন নয়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে মূলত জীবনযাত্রা ও খাবারের পরিমাণের দিকে নজর দিতে হয়।
ভাতে কার্বোহাইড্রেট থাকলেও সঠিক পরিমাণে এবং সঠিক চাল বেছে নিয়ে খেলে ডায়াবেটিসের রোগীরাও নিশ্চিন্তে ভাত খেতে পারেন।
আতপ চাল নাকি সেদ্ধ চাল: কোনটি সেরা?
আমাদের ঘরে সাধারণত আতপ ও সেদ্ধ- এই দুই ধরণের চাল বেশি থাকে। আতপ চালে কিছু ভিটামিন বেশি থাকলেও এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI) অনেক বেশি, যা রক্তে সুগারের মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দেয়।
তাই পুষ্টিবিদদের মতে, ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য রোজকার খাবারে আতপ চালের চেয়ে সেদ্ধ চাল খাওয়া অনেক বেশি নিরাপদ।
সবচেয়ে উপকারী 'পারবয়েল্ড রাইস'
সেদ্ধ চালের চেয়েও ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য সবচেয়ে ভালো হলো পারবয়েল্ড রাইস (Parboiled Rice)। এই চাল তৈরির পদ্ধতি একটু ভিন্ন। ধান থেকে খোসা ছাড়ানোর আগেই তা আংশিক সেদ্ধ করে নেওয়া হয়।
এর ফলে চালের ওপরের স্তরে থাকা ভিটামিন ও খনিজ উপাদানগুলো চালের ভেতরে চলে যায়। ফলে সাধারণ সাদা চালের চেয়ে এর পুষ্টিগুণ অনেক বেশি থাকে।
পারবয়েল্ড চালের যত গুণ
সুগার নিয়ন্ত্রণে রাখে: এই চালের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স সাধারণ চালের চেয়ে কম। ফলে ভাত খাওয়ার পর রক্তে হুট করে সুগারের মাত্রা বাড়ে না।
সহজে হজম হয়: এতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার বা আঁশ থাকে, যা হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করে।
শক্তির উৎস: এর কার্বোহাইড্রেট শরীরে সারাদিনের প্রয়োজনীয় শক্তি জোগায়।
পুষ্টিতে ভরপুর: এই চালে থায়ামিন, নিয়াসিন ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো দরকারি উপাদান প্রাকৃতিকভাবেই বজায় থাকে, যা আমাদের স্নায়ু ও পেশি সতেজ রাখতে সাহায্য করে।
ডায়াবেটিস থাকলে ভাত খাওয়া ছাড়তে হবে না; শুধু ভাতের পরিমাণ ঠিক রাখতে হবে এবং আতপ চাল বাদ দিয়ে সেদ্ধ বা পারবয়েল্ড চাল বেছে নিতে হবে।
