বৃহস্পতিবার
০৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার
০৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচে বিতর্কিত রেফারিং নিয়ে ব্যাখ্যা দিলো ফিফা

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
expand
ছবি: সংগৃহীত

চলমান বিশ্বকাপে বেশ কয়েকটি ম্যাচে রেফারিং নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে আর্জেন্টিনা ও মিশরের শেষ ষোলোর ম্যাচকে ঘিরে। ওই ম্যাচে ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়েরের সিদ্ধান্ত এবং ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর)-এর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মিশরের কোচ ও খেলোয়াড়রা। এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিয়েছে ফিফা।

ম্যাচে ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল মিশর। পরে আর্জেন্টিনা ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩-২ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে। তবে মিশরের একটি গোল বাতিল এবং সম্ভাব্য একটি ফাউলের সিদ্ধান্ত না আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন দলটির কোচ হোসাম হাসান।

ফিফার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা পিয়েরলুইজি কোলিনা বলেন, টুর্নামেন্টে এখনো গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ম্যাচ বাকি রয়েছে এবং সামগ্রিকভাবে রেফারিংয়ের মান নিয়ে তারা সন্তুষ্ট। তবে অল্প সময়ে অনেক ম্যাচ পরিচালনার কারণে কিছু পরিস্থিতি পরিকল্পনামতো না-ও হতে পারে, যা স্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রেফারিদের সিদ্ধান্ত নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা ফুটবলের অংশ হলেও ভিত্তিহীন অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন কোলিনা। তার ভাষায়, এমন অভিযোগ অনেক সময় রেফারি ও তাদের পরিবারের জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

তিনি আরও বলেন, ফিফার রেফারিং কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে পরিচালিত হয় এবং ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোসহ কোনো ব্যক্তি রেফারিদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারেন না। ম্যাচ কর্মকর্তারা সর্বোচ্চ সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন বলেও তিনি দাবি করেন।

টুর্নামেন্ট চলাকালে সাধারণত নির্দিষ্ট কোনো বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে মন্তব্য না করার নীতি থাকলেও, আর্জেন্টিনা–মিশর ম্যাচের ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে ব্যাখ্যা দেন কোলিনা। তিনি জানান, প্রতিটি গোলের আগে পুরো আক্রমণভাগের বল দখলের ধাপ (Attacking Possession Phase) ভিএআরের মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হয়। গোলের আগে কোনো ফাউল শনাক্ত হলে এবং সেটি গোলে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে হলে, ভিএআর রেফারিকে মাঠের পাশের মনিটরে গিয়ে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দেয়।

কোলিনার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ওই ম্যাচে মিশরের মারোয়ান আত্তিয়া আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্তিনেজের পায়ের ওপর পা রেখেছিলেন, যা ফিফার দৃষ্টিতে স্পষ্ট ফাউল। সে কারণেই ভিএআর হস্তক্ষেপ করে এবং রেফারি সিদ্ধান্ত নেন।

অন্যদিকে, ম্যাচের শেষ দিকে মোহামেদ সালাহ ও হুলিয়ান আলভারেজের মধ্যে হওয়া সংস্পর্শের ঘটনাকে স্বাভাবিক ফুটবলীয় সংঘর্ষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। কোলিনার ভাষায়, কোনো ডিফেন্ডার আগে বল স্পর্শ করলে পরবর্তী স্বাভাবিক শারীরিক সংস্পর্শকে সবসময় ফাউল ধরা হয় না। রেফারি ও ভিএআর উভয়েই সেই নীতির ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সবশেষে কোলিনা বলেন, কিছু সিদ্ধান্তে ব্যক্তিগত বিচার-বিশ্লেষণের সুযোগ থাকলেও পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে একই নীতির ধারাবাহিক প্রয়োগে ফিফা সন্তুষ্ট।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
UPCOMING
France VS Morocco
Scheduled
10 Jul, 02:00 AM
VS
World Cup