

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


প্রযুক্তির ভিড়ে যখন স্মার্টওয়াচ বা ফিটনেস ট্র্যাকারের মতো ইলেকট্রনিক গ্যাজেট আমাদের জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করছে, ঠিক তখনই ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারক বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান নাইকি (Nike) নিয়ে এলো এক অবিশ্বাস্য চমক।
কোনো ব্যাটারি বা ইলেকট্রনিক যন্ত্র ছাড়াই কেবল জুতোর বুনন ও বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষের মন ভালো করা এবং মনোযোগ বাড়ানোর দাবি নিয়ে বাজারে এসেছে তাদের নতুন ‘মাইন্ড’ সিরিজ।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাজারে আসার পর থেকেই বিশ্বজুড়ে জুতোটি নিয়ে রীতিমতো কাড়াকাড়ি পড়ে গেছে।
ইতিমধ্যে জুতোর স্টক শেষ হয়ে যাওয়ায় নাইকির অনলাইন শপে নতুন করে এটি পেতে নাম নিবন্ধন করেছেন ২০ লাখেরও বেশি মানুষ! এমনকি রিসেল সাইটগুলোতেও এটি চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।
জুতোটি যেভাবে কাজ করে
খেলাধুলার আগে ও পরে মানুষের মানসিক বিভ্রান্তি দূর করতে এবং মনোযোগ বাড়াতে এই জুতোটি বিশেষভাবে সাহায্য করে। এর মূল রহস্য লুকিয়ে আছে জুতোর তলায়:
জুতোর তলায় ২২টি ফোমের বোতামের মতো অংশ রয়েছে। হাঁটার সময় এগুলো পিস্টনের মতো স্বাধীনভাবে ওঠানামা করে পায়ের স্পর্শইন্দ্রিয়ের ওপর সুনির্দিষ্ট চাপ সৃষ্টি করে।
নাইকি স্পোর্ট রিসার্চ ল্যাবের প্রধান গবেষক গ্রায়েম মফাট জানান, ১০ বছরের গবেষণায় দেখা গেছে এই চাপ মস্তিষ্কের 'সেন্সরিমোটর নেটওয়ার্ক'কে সচল করে এবং নেতিবাচক চিন্তা সৃষ্টিকারী অংশকে শান্ত রাখে। ফলে ব্যবহারকারী এক ধরণের ‘স্বস্তিদায়ক সতর্কতা’ অনুভব করেন।
যুক্তরাজ্যের লাফবরো ইউনিভার্সিটির পরিধানযোগ্য প্রযুক্তি (Wearable Technology) বিষয়ের অধ্যাপক ড. ইশারা ধর্মসেনা মনে করেন, নাইকির এই বৈজ্ঞানিক ধারণার সাথে প্রাচীন আয়ুর্বেদিক চিকিৎসাপদ্ধতির বেশ মিল রয়েছে।
বিশ্ব যখন প্রতিনিয়ত আরও বেশি ইলেকট্রনিক্সের দিকে ঝুঁকছে, নাইকি সেখানে কোনো ব্যাটারি ছাড়াই শরীর ও মন সুস্থ রাখার এক কৌশলী পদ্ধতি তৈরি করেছে।
তাই ড. ধর্মসেনা একে আখ্যা দিয়েছেন নিষ্ক্রিয় প্রযুক্তি বা ‘প্যাসিভ নিউরো-উইয়ারেবল’-এর এক অনন্য ‘অ্যান্টি-ট্রেন্ড’ হিসেবে।
আশঙ্কা
তবে এই প্রযুক্তির একটি সীমাবদ্ধতার কথাও গবেষকরা মনে করিয়ে দিয়েছেন। ড. ধর্মসেনা সতর্ক করে বলেছেন যে, দীর্ঘদিন একটানা ব্যবহারের ফলে আমাদের মস্তিষ্ক এই নতুন অনুভূতির সাথে মানিয়ে নিতে পারে। এর ফলে সময়ের সাথে সাথে জুতোটির কার্যকারিতা বা কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার একটি আশঙ্কা থেকে যায়।
নাইকির এই উদ্ভাবন ফ্যাশন ও খেলার দুনিয়ায় ‘পরিধানযোগ্য সুস্থতা’ (Wearable Wellness)-র এক নতুন যুগের সূচনা করেছে।
শুধু নাইকিই নয়, ইলেকট্রনিক যন্ত্র ছাড়াই কেবল কাপড়ের বুননে পরিবর্তন এনে শরীর ও মন চাঙ্গা রাখার এই দৌড়ে এখন শামিল হয়েছে নাবোসো, সিয়ান কিংবা ফরাসি ব্র্যান্ড কোপার্নির মতো প্রতিষ্ঠানগুলোও।
