

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বর্তমান সময়ে মানুষের জীবনযাপনের ধরন অনেকটাই বদলে গেছে। অধিকাংশ মানুষই দিনের শুরু করেন কাজের চাপ, উদ্বেগ ও নানা ধরনের মানসিক ব্যস্ততা নিয়ে। এর প্রভাব শুধু শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর নয়, মানসিক সুস্থতার ওপরও পড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনের শুরুটা সঠিকভাবে করতে পারলে মানসিক স্বাস্থ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। কিছু সহজ সকালের অভ্যাস মনকে প্রফুল্ল রাখতে এবং মানসিক চাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অনেকেরই অভ্যাস ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল ফোনে চোখ রাখা। তবে বিশেষজ্ঞরা এ অভ্যাস থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন। এর পরিবর্তে নিজের সঙ্গে ইতিবাচক কথা বলা যেতে পারে।
যেমন: ‘আজ আমি শান্ত থাকব’ বা ‘আজকের দিনটি ভালো যাবে’। এমন চিন্তা মস্তিষ্কে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেয় এবং উদ্বেগ কমাতে সহায়তা করে। পাশাপাশি সকালে কয়েক মিনিট মেডিটেশন করলেও মন শান্ত থাকে।
সকালে অন্তত ৫ থেকে ১০ মিনিট প্রাকৃতিক সূর্যালোকের সংস্পর্শে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। সূর্যের আলো শরীরে সেরোটোনিন হরমোনের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে, যা মন ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পার্ক বা খোলা মাঠে যাওয়ার সুযোগ না থাকলে বারান্দা, ছাদ কিংবা আশপাশের রাস্তায় কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করলেও উপকার পাওয়া যায়।
শরীর ও মনকে সতেজ রাখতে হালকা ব্যায়াম বা স্ট্রেচিংও কার্যকর। এতে রক্তসঞ্চালন বৃদ্ধি পায় এবং মস্তিষ্কে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছায়। ফলে মনোযোগ ও কর্মক্ষমতা বাড়ে। বিশেষ করে যাদের কাজের চাপ বেশি, তাদের জন্য এই অভ্যাস বেশ উপকারী।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে এক গ্লাস পানি পান করা উচিত। দীর্ঘ সময় ঘুমের কারণে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হয়, যা পানি পান করলে দূর হয় এবং শরীর সতেজ অনুভূত হয়।
সকালের খাবারের ক্ষেত্রেও সচেতন থাকা জরুরি। ডিম, দই, বাদামসহ প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার কিংবা স্বাস্থ্যকর নাশতা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। এতে দ্রুত ক্লান্তি আসে না এবং সারাদিন শক্তি বজায় থাকে। অন্যদিকে অতিরিক্ত মিষ্টিজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
এ ছাড়া দিনে কয়েকবার নিজের কাছে একটি প্রশ্ন রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়—‘আমি যা করছি, তা কি আমার মস্তিষ্কের জন্য উপকারী?’ এমন আত্মসচেতনতা মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিনের এসব ছোট ছোট অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে বড় পরিবর্তন আনতে সক্ষম। তাই সচেতনভাবে দিনের শুরু করলে মানসিক চাপ কমে, মন ভালো থাকে এবং কাজের দক্ষতাও বৃদ্ধি পায়।
