

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আমাদের সমাজে বিবাহবিচ্ছেদ এখনো বেশির ভাগ সময়েই নেতিবাচক চোখে দেখা হয়। এই চাপটা পুরুষদের তুলনায় নারীদের ওপর অনেক বেশি পড়ে। আত্মীয়দের প্রশ্নবাণ, পরিচিতজনের কানাঘুষা কিংবা পরিবারের নীরব হতাশা—সব মিলিয়ে বিচ্ছেদ অনেক নারীর জন্য মানসিকভাবে ভীষণ কষ্টকর হয়ে ওঠে। এমন বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর সেটিকে উদ্যাপন করার ধারণা অনেকের কাছেই অস্বাভাবিক মনে হতে পারে। কিন্তু পৃথিবীর নানা জায়গায়, এমনকি ধীরে ধীরে আমাদের সমাজেও কিছু নারী এই বিচ্ছেদকে দেখছেন এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে। সেই বদলে যাওয়া মানসিকতার প্রতীক হিসেবেই সামনে আসছে ‘ডিভোর্স রিং’।
পশ্চিমা বিশ্বে আলোচিত এই প্রবণতার কথা উঠে এসেছে ব্রিটিশ ফ্যাশন সাময়িকী ভোগ-এ। দেখতে এই আংটি অনেকটাই বিয়ের বা এনগেজমেন্ট রিংয়ের মতো—চকচকে ধাতু, কোথাও রত্নের ঝিলিক—তবে এর তাৎপর্য সম্পূর্ণ আলাদা। ডিভোর্স রিং পরার অর্থ হলো সম্পর্কের গণ্ডি পেরিয়ে নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার সাহসকে দৃশ্যমান করা। লন্ডনভিত্তিক গয়না ডিজাইনার আনুশকা ডুকাসের মতে, এই আংটি দুঃখের নয়; বরং এটি আনন্দ ও আত্মবিশ্বাসের প্রতীক।
ডুকাস নিয়মিত তাঁর বুটিকে আয়োজন করেন ‘ডিভোর্স রিং পার্টি’। সেখানে বিচ্ছেদ–সংক্রান্ত আইনজীবী ও তাঁদের ক্লায়েন্টরা একত্র হন। পরিবেশটা ভারী বিষাদের নয়; বরং সেখানে থাকে হাসি, গল্প আর পারস্পরিক সহানুভূতির উষ্ণতা। তাঁর ভাষায়, এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের মধ্যে সংযোগ তৈরি করা—একটি সহায়ক কমিউনিটি গড়ে তোলা।
এই ধারণা জনপ্রিয় করে তুলতে তারকাদের ভূমিকাও কম নয়। মার্কিন মডেল ও অভিনেত্রী এমিলি রাতাজকাউস্কি তাঁর বিবাহবিচ্ছেদের পর পুরোনো এনগেজমেন্ট রিংয়ের হীরাগুলো ব্যবহার করে তৈরি করেছেন দুটি নতুন আংটি। সামাজিক মাধ্যমে সেগুলো প্রকাশ করে তিনি যেন জানিয়ে দিয়েছেন—পুরোনো সম্পর্কের স্মৃতি মুছে ফেলা নয়, বরং সেটিকে নতুন অর্থে রূপ দেওয়াই তাঁর পথ।
তবে বিচ্ছেদকে উদ্যাপন করার অর্থ শুধু দামি আংটি কেনা নয়। অনেকের কাছে এটি মানসিক মুক্তির প্রকাশ। কেউ সেই অনুভূতি ফুটিয়ে তুলছেন ট্যাটুর মাধ্যমে, কেউ বন্ধুদের নিয়ে পার্টি করে, আবার কেউ নিজের ঘর নতুনভাবে সাজিয়ে। টিকটকে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা #DivorcedMomCore ট্রেন্ডেও সেই বার্তাই স্পষ্ট—এখন থেকে জীবন চলবে নিজের পছন্দ, নিজের রুচি আর নিজের নিয়মে।
সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, এই প্রবণতা আসলে নারীর আত্মপরিচয় পুনরুদ্ধারের একটি নতুন ভাষা। দীর্ঘদিন ধরে বিয়ে ও সম্পর্ককেই নারীর জীবনের সাফল্যের প্রধান মানদণ্ড হিসেবে দেখা হয়েছে। ডিভোর্স রিং সেই ধারণাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। এটি মনে করিয়ে দেয়, সম্পর্কের শেষ মানেই সবকিছুর শেষ নয়—অনেক সময় সেটাই হয় নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করার শুরু।
মন্তব্য করুন

