

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রাজধানীর কদমতলীর শনিরআখড়ায় ক্রোকারিজের দোকানে ঢুকে ব্যবসায়ীকে গুলি করার ঘটনায় করা অস্ত্র আইনের মামলায় মঞ্জুরুল ইসলাম নামে এক আসামিকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, শনিবার রাত সোয়া ৮টার দিকে দক্ষিণ দনিয়া-শনিরআখড়া এলাকায় একটি ক্রোকারিজের দোকানে ঢুকে ব্যবসায়ী মো. আসলাম খানকে গুলি করা হয়। স্থানীয়দের সহায়তায় ঘটনাস্থল থেকে মঞ্জুরুলকে আটক করা হয়। পরে তার কাছ থেকে দুটি পিস্তল, নয় রাউন্ড গুলি ও একটি গুলির খোসা উদ্ধারের কথা জানায় পুলিশ।
গুলিবিদ্ধ আসলামকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পুলিশের ভাষ্য, মোটরসাইকেলে করে আসা দুই ব্যক্তি তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।
এ ঘটনায় কদমতলী থানায় অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঞ্জুরুলকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে তদন্ত কর্মকর্তা তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। মঙ্গলবার শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
শুনানির সময় মঞ্জুরুলের মাথায় ব্যান্ডেজ দেখা যায়। তার পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। বিচারক তার কিছু বলার আছে কি না জানতে চাইলে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।
মঞ্জুরুল বলেন, তিনি জসীম নামে একজনের সঙ্গে মহাখালী এলাকায় থাকেন। অনেক আগে মোটরসাইকেল নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ হয়। জসীম তার মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ায় তিনি ৭০ হাজার টাকা দাবি করেন। এ ঘটনা থেকেই তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয় বলে দাবি করেন তিনি।
আদালতে মঞ্জুরুল আরও বলেন, “আমি গুলি করি নাই। গুলি করছে জসীম। জসীম জুরাইনে কালা মীরের ডান হাত। আমার কাছে কিছু পায় নাই। আমার স্ত্রী আর মেয়ের ছবি দেখিয়ে আমাকে জিম্মি করে নিয়ে আসছে। সিএনজিতে করে মহাখালী থেকে নিয়ে আসে।”
তিনি দাবি করেন, স্ত্রী ও মেয়ের ক্ষতির ভয় দেখিয়ে তাকে ঘটনাস্থলে যেতে বাধ্য করা হয়। তার ভাষায়, “জসীম বলছে, না গেলে ওরা (স্ত্রী-মেয়ের) ক্ষতি করবে, মেরে ফেলবে। আমাকে বাধ্য করছে নিয়ে আসতে। আমি কিছু করিনি।”
রিমান্ড না দেওয়ার আবেদন জানিয়ে মঞ্জুরুল আদালতকে বলেন, “আমার অবস্থা খুব খারাপ। রিমান্ড দিলে কিছু দিন পর দেন। যা সত্য তাই বলবো। এখন রিমান্ডে দিলে মারাও যেতে পারি। আমার মাথায় কাজ করছে না। মাথা ঘুরছে, দাঁড়িয়ে থাকতে পারছি না।”
তিনি আরও বলেন, “ওদের কথা না শুনলে আমার স্ত্রী-মেয়েকে মেরে ফেলতো। আমি ছাড়া ওদের আর কেউ নাই। আপনি (বিচারক) যা বলবেন, তাই করবো। মানসিক চাপে আছি, রিমান্ড দিয়েন না।”
তবে তার এসব দাবি আমলে নিয়ে শুনানি শেষে আদালত মঞ্জুরুল ইসলামের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।


