সোমবার
১৭ আগস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
১৭ আগস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাভারে এসআই নেয়ামতের চাঁদাবাজি, তদন্তে পিবিআই

এনপিবি প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০২৬, ০৪:১৬ এএম
অভিযুক্ত এসআই মোহাম্মদ নেয়ামত উল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত
expand
অভিযুক্ত এসআই মোহাম্মদ নেয়ামত উল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত

চাঁদাবাজির অভিযোগে সাভার মডেল থানার বিতর্কিত উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ নেয়ামত উল্লাহসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে মামলা করা হয়েছে।

রোববার (১৬ আগস্ট) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহাবুবুর রহমানের আদালতে সাভারের পশ্চিম রাজাশন এলাকার বাসিন্দা মোসা. সুরাইয়া বেগম বাদী হয়ে এ মামলার আবেদন করেন।

আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ শেষে অভিযোগটির সত্যতা যাচাইয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী হরে কৃষ্ণ।

মামলার অপর দুই আসামি হলেন—মাহাবুব হোসেন সামির ওরফে ফেন্সি সামির ও সাদ্দাম হোসেন। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৭ থেকে ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, আসামিরা দীর্ঘদিন ধরে সুরাইয়া বেগমের ছেলে শামীম রেজার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। গত ২২ মে আসামিরা শামীমের রিকশার গ্যারেজে গিয়ে ৩৮ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকার করায় গ্যারেজে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে প্রায় ১২ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করা হয়। এ সময় গ্যারেজ থেকে নগদ ৯০ হাজার টাকা ও ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের একটি মোটরসাইকেল লুট করে নিয়ে যায় হামলাকারীরা। পরবর্তী সময়ে একটি মামলায় শামীম রেজাকে গ্রেপ্তার করে সাভার মডেল থানায় নিয়ে আসা হয়। অভিযোগ রয়েছে, থানায় রিমান্ডে নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ভয় দেখিয়ে এসআই নেয়ামত উল্লাহ শামীমের পরিবারের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তাছাড়া পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ার সুবাদে শামীম ও তার স্ত্রীকে বিভিন্ন মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া এবং পরোয়ানার ভয় দেখিয়ে হয়রানি থেকে রক্ষার কথা বলে কয়েক দফায় সাড়ে চার লাখ টাকা হাতিয়ে নেন তিনি।

বাদী সুরাইয়া বেগম অভিযোগ করেন, শামীমকে গত ১০ জুন মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। রিমান্ডে নির্যাতন এড়াতে শামীমের পরিবারের কাছে দুটি আইফোন দাবি করেন এসআই নেয়ামত। পরে চার লাখ ৩৪ হাজার টাকায় দুটি ফোন কিনে দেওয়া হলেও আইফোন ১৭ প্রো-ম্যাক্স ফোন পছন্দ হয়নি ওই পুলিশ কর্মকর্তার। পরবর্তীতে গত ১৪ জুন বসুন্ধরা সিটির একটি দোকান থেকে ফোন পরিবর্তন করে ১ টেরাবাইট মেমোরির আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স নিজের নামে বদলে নেন তিনি।

কারাগারে ছেলের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে সুরাইয়া বেগম জানতে পারেন, এসআই নেয়ামত শামীমের ৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা মূল্যের তিনটি মোবাইল, ৪২ হাজার টাকার একটি আংটি এবং নগদ ৩ লাখ ৩৮ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। বিষয়টি জানাজানি হলে তিনি তিনটি মোবাইল ফেরত দিলেও টাকা ও আংটি রেখে দেন। শুধু তাই নয়, কৌশলে শামীমের কিছু আপত্তিকর ছবি তুলে তা দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে আরও ৭৩ হাজার টাকা আদায় করেন। পরবর্তীতে গত ২৬ জুন অপর আসামিরা শামীমের বাড়িতে গিয়ে পুনরায় আগের চাওয়া ৩৮ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে হুমকি দেয়।

এ ঘটনায় সুরাইয়া বেগম প্রথমে সাভার মডেল থানায় মামলা করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। বাধ্য হয়ে বিচার পেতে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি সাভার মডেল থানার এসআই মোহাম্মদ নেয়ামত উল্লাহর বিরুদ্ধে ঘুষ, চাঁদাবাজি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও আসামি পরিবারকে ব্ল্যাকমেইলের একাধিক অভিযোগ ওঠে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হলেও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে তিনি বহাল তবিয়তে ছিলেন বলে ভুক্তভোগীদের দাবি। শামীম রেজার মাদক মামলার তদন্তের আড়ালে অডিও-ভিডিও রেকর্ড ও আলামত গোপনের বিস্ফোরক অভিযোগ ওঠার পর অবশেষে আদালতে এ মামলা দায়ের করা হয়।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank