

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ তুলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়।
কয়েকজন পরীক্ষার্থীর পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সিদ্দিক উল্ল্যাহ মিয়া প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, পিএসসি চেয়ারম্যান এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে এই নোটিশ পাঠান।
এর মধ্যেই সারাদেশে প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান জোরদার হয়। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া অভিযানে প্রমাণসহ অন্তত ২১ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে এসব ঘটনা ও আইনি নোটিশের তোয়াক্কা না করেই শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তিন পার্বত্য জেলা বাদ দিয়ে দেশের ৬১ জেলার ১ হাজার ৪০৮টি কেন্দ্রে একযোগে এই পরীক্ষা নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, ১৪ হাজার ৩৮৫টি পদের বিপরীতে পরীক্ষায় অংশ নেন ১০ লাখ ৮০ হাজার ৮০ জন চাকরিপ্রার্থী।
পরীক্ষা শুরুর আগেই প্রশ্নফাঁস ও তথাকথিত ‘কেন্দ্র কন্ট্যাক্ট’-এর মাধ্যমে অনিয়মের আশঙ্কা নিয়ে আলোচনা চলছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে আইনি নোটিশ দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। অনেকে শঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন পরীক্ষা বাতিলও হয়ে যেতে পারে।
এদিকে পরীক্ষার দিন কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রস্তুতির অভিযোগে ১০ জনকে আটক করে পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুপুর ২টা থেকে ৩টার মধ্যে পরীক্ষা কেন্দ্রসংলগ্ন একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। অভিযানে প্রশ্নপত্রের ফটোকপি ও একাধিক ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন মাদারীপুর জেলার বাসিন্দা, একজন কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার এবং বাকি সাতজন নাগেশ্বরী উপজেলার বাসিন্দা। আটক ব্যক্তিদের একজন স্থানীয় বিএনপির একটি ইউনিয়ন কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক বলেও জানা গেছে।
নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ হিল জামান জানান, পরীক্ষার আগে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রস্তুতির খবর পেয়ে অভিযান চালানো হয়। আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে উদ্ধার করা প্রশ্নপত্রের সঙ্গে পরীক্ষাকেন্দ্রে ব্যবহৃত প্রশ্নপত্রের মিল রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।
এদিকে নওগাঁয় জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) যৌথ অভিযানে প্রশ্নফাঁস চক্রের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ৯ জনকে আটক করেছে।
শুক্রবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শহরের পোরশা রেস্টহাউস ও হোটেল নীল সাগরে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় ৭টি অ্যান্ড্রয়েড ফোন, ৪টি ফিচার ফোন এবং প্রায় ৩৮ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৬ জন পরীক্ষার্থী, একজন অভিভাবক এবং দুজন দালাল চক্রের সদস্য বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে বৃহস্পতিবার রংপুরে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে একটি চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। নগরের একটি রেস্তোরাঁয় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকেও প্রশ্নফাঁসে ব্যবহৃত বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে।
একাধিক স্থানে প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত অভিযোগ ও গ্রেপ্তারের ঘটনায় পরীক্ষা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন চাকরিপ্রার্থীরা। তারা দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন

